জলবায়ু পরিবর্তনে স্কুল বিমুখ শিশুরা, জীবনের মোড় ঘুরে যায় মাদকে
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার : ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম উত্তর যশপুরের সন্তান তারেকুল ইসলাম। বয়স আট পেরিয়ে এখন আট চলছে। দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করলেও এরপর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। তার স্কুলে না যাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে পারিবারিক অর্থিক অভাব-অনটনই প্রধান। তারেকুলের বাবা ভূমিহীন এক কৃষক। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বসতভিটাটুকুও এখন পর্যাপ্ত নয়। অন্যের জমিতে শ্রম দেয়ার পাশাপাশি বর্গা চাষী হিসেবে নিজেও কিছু জমি চাষ করেন। তাদের চলে তালেকুলদের ৬ সদস্যের পরিবার। তারেকুলরা ভাই-বোন ৪ জন। ভাই-বোনদের মধ্যে সে সবার বড়। এখন তারেকুল আর স্কুলে যায় না। আর কখনও যাওয়া হবে কিনা তারেকুল সেটাও জানে না।
তারেকুলের বাবা অন্যের জমিতে চুক্তি করে শ্রম দিয়ে পরিবার চালায়। ছেলেকে নিয়ে গেলে তার একটু সহযোগিতা হয়। কাজও তাড়াতাড়ি শেষ করা যায়। তারেকুলরের বাবার কাছে এখন অভাবের সংসারে ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর পরিবর্তে অর্থ উপর্জনের কাজে লাগানোই শ্রেয় মনে হচ্ছে। কারণ ছেলের স্কুলে যাওয়ার বাড়তি খরচের চেয়ে ছেলেকে উপার্জনের কাজে দিলে পরিবারের আর্থিক সার্পোটও হবে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তের মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে মেলামেশা করে তারেকুল। এখন দারিদ্রের দুষ্ট চক্রের কষাঘাতে হীনমন্যতায় ভোগে তারেকুল। তবে কিছুদিন আগেও নিম্ন মধ্যবিত্ত তারেকুলদের এমন অবস্থা ছিল না। গত বছর বজ্রপাতে ৩টি গরু একসঙ্গে মারা যাওয়ার পর তারেকুলের পরিবারে অর্থনৈতিক ধস নামে।
সুতরাং দ্বিতীয় শ্রেণীতেই তারেকুলের পড়াশুনার ইতি টানতে হলো। গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার মান শহরের তুলনায় নিম্নগামী হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কিছুটা উদাসিনতাও রয়েছে। যার কারণে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করলেও তারেকুল এখনও নিজের নামটি ভালোভাবে লেখতে পারে না। দরিদ্রতার কষাঘাতে প্রথমিক শিক্ষা শেষ করার আগের তাকে স্কুল থেকে ঝরে পড়তে হলো।
নক্ষত্র ঋষি দাসের বয়স ৯ বছর। এখন চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নক্ষত্র। নক্ষত্রের পৈত্রিক নিবাস কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার দিঘিরপাড় ঋষিপাড়া গ্রামে। পরিবারের অন্য সদস্যরা গ্রামের বাড়িতে থাকলেও বাবা প্রাণেশ ঋষি দাসের সঙ্গে ঢাকায় থাকে নক্ষত্র। চুতুর্থ শ্রেণীর পর আর পড়াশুনা করতে না পারা প্রাণেশ এখন মুচির কাজ করে ছেলের পড়াশুনাসহ পরিবারের অন্যান্য খরচ চালিয়ে আসছেন। রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পাশে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৫-৬শ টাকা আয় করেন প্রণেশ। বহু সংগ্রাম করে ঢাকায় ছেলেকে নিজের সঙ্গে রেখে পড়াশুনা করিয়ে বড় মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নে বিভোর প্রাণেশ। তাই ফুটপাতের মুচির দোকানে ছেলেকে পাশে বসিয়ে নিজের মতো করে পড়ান তিনি। সাথে উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে চালিয়ে যান নিজের পেশাগত কাজ।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছেলেকে নিজের তদারকির মাধ্যমে বহু কষ্টে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত এনেছেন। এতদিন ছেলেকে যতটুকু সম্ভব তিনি নিজেই পড়াতেন। কিন্তু ছেলে নক্ষত্র এখন চতুর্থ শ্রেণীতে ওঠার পর তিনি ছেলেকে পড়ানোয় প্রায় অপারগ হয়ে পড়েছেন। কারণ নিজের পড়াশুনাই যখন চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত তিনি ছেলেকে পড়ানোর দায়িত্ব আর কত নিতে পারেন। প্রাইভেট শিক্ষক ও কোচিং মুখোপেক্ষী শিক্ষা ব্যবস্থার এ নগরে শুধুমাত্র শ্রেণীকক্ষের পড়াশুনার ওপর নির্ভর করে সহপাঠীদের সঙ্গে টিকে থাকা অসম্ভব।
প্রাণেশ দাস জানান, নিজের অক্লান্ত শ্রমের ওপর ভর করে ছেলেকে এ ব্যয়বহুল নগরে এতটুকু নিয়ে এসেছেন। তার সামান্য আয় দিয়ে এভাবে কোন শ্রেণী পর্যন্ত ছেলের পড়াশুনা এগিয়ে নিতে পারবেন তার কোন ইয়াত্তা নিজের জানা নেই। এখন তিল তিল করে অতি ব্যয়বহুল এ নগরে নিজের হাড়ভাঙা শ্রমের ওপর ভর করে ছেলের পড়াশুনা এগিয়ে নেই প্রাণেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝে মধ্যে ছেলে নক্ষত্রের প্রাথমিক শিক্ষার ইতি টানার আগেই স্কুল থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা করেন প্রাণেশ। হাওরাঞ্চলে তাদের বসবাস হওয়ার কারণে অতি পরিশ্রমে গড়া পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত ও চাষাবাদের পরিবেশ যেকোন মূহুর্তে ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কাও করেন প্রাণেশ।
তারেকুল ও নক্ষত্রের মতো জলবায়ু পরিবর্তন, ভৌগলিক প্রভাব, পিতা-মাতার বিচ্ছেদসহ বিভিন্ন কারনে অপরিণত বয়সেই স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তী এসব শিশুরা ধাবিত হয় অন্ধকার জগতে। এরপর তাদের হাতছানি দেয় মাদক। তখন শিশু বয়সের লাতিত স্বপ্ন নস্যাৎ হয়ে জীবনের মোড় ঘুরে যায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ের জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান প্রভাব হলো তাপ প্রবাহ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে প্রতি ৩ জনের একজন শিশু প্রতিদিন ক্ষতির শিকার হচ্ছে। যা ২০৫০ সালে দেশের মোট শিশুর ৯৯ শতাংশে এসে দাঁড়াতে পারে। সংখ্যার হিসাবে যা ৩ কোটি ৫৫ লাখ শিশু প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হবে। ২০২০ সালে দেশের মোট শিশুর ৫ শতাংশ এ ঝুঁকির সম্মুখীন ছিল।জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধিতে অপরিণত শিশু জন্মের ঝুঁকি ৫ শতাংশ বাড়ে। তাপপ্রবাহ না থাকা সময়ের তুলনায় তাপপ্রবাহের সময়ে এ হার ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাপপ্রবাহের সময়ে অপরিণত শিশু জন্মের ঝুঁকি অনেক বেশি। বাংলাদেশে অপরিণত শিশুজন্মের হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।অনুসন্ধানে দেখা যায় বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে অর্থনৈতিক ধস ও বিভিন্ন পরিবার দারিদ্রের দুষ্টুচক্রে পড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবকে দায়ী করা হয়। তবে এতে অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদল, রাজনৈতিক সহিংসতা ও পরিবারিক এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক শত্রুতা ইত্যাদি। তবে জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব মূখ্য। বিশ্বব্যাংক, জার্মান ওয়াচ ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস’র বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে আক্রান্ত দেশগুলোর বাংলাদেশের অবস্থান র্শীর্ষে রয়েছে।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো, প্রতিবছর বন্যা, নদী ভাঙন ও ঘূণিঝড়ের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের সম্পদ ও বাসস্থান ধ্বংস হওয়ার কারণে দেশের বড় শহরগুলোতে উদ্বাস্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে শিশুদের জীবনমানে ভাটা পড়ছে। এদিকে সরকার শহরের জনসংখ্যার চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাওয়ার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধে ভূমিকা ও দারিদ্র বিমোচনের উদ্যোগ নেযা কস্টকর হয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান নষ্ট হওয়ার কারণে আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে প্রতিবছর বিশাল সংখ্যক একটি জনগোষ্ঠিকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যার মধ্যে প্রতি চার জনে একজন বস্তিতে বাস করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ক্ষেত্রে পাহাড়ি অঞ্চল, হাওরাঞ্চল, নদী অঞ্চল ও উপকূলের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে, নদী ভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, খরা, প্রাকৃতিক সম্পদের হ্রাস, সমূদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি ও কৃষি উৎপাদন হ্রাস ইত্যাদি। এছাড়া গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদের হ্রাস শিশুদের আমিষের ঘাটতি পূরণ ও প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহকারী কিছু মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কাকের শহর নামে পরিচিত ঢাকা শহরে এখন কাকের দেখা পাওয়া যায় না বললেই চলে। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রভাবের মধ্যে বজ্রপাতও বেশ লক্ষণীয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এসব নেতিবাচক প্রভাব সকল ক্ষেত্রে পড়লেও এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। এতে তাদের সকল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্ন ধূলিসাত হয়ে যায়। ঘুরে যায় জীবনের মোড়।
মাদকের ভয়ঙ্কর ছোবল
স্কুল থেকে ঝরেপড়ার কারণে অধিকাংশ শিশু অপরিণত বয়সেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এক জরিপে দেখা যায় মাদকাশক্ত শিশুদের ৯৯শতাংশ শিশুই হলো ভাঙ্গা পরিবারের। বাবা-মায়ের অতিরিক্ত প্রশ্রয় বা শাসন, অভিভাবকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, বিচ্ছেদ, সন্তানকে সময় না দেয়ার প্রবণতার কারণেই শিশুরা মাদকাশক্ত হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক গবেষণার তথ্য বলা হয়েছে, যেসব নারী ও শিশুকে মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। সামান্য অর্থের বিনিময়ে তাদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে মাদকসেবনের ঘটনা বাড়ছে। এর কারণ হচ্ছে, শিশুমনের কৌতূহল, দারিদ্র্য এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৪ ধরনের মাদক আছে। তবে বাংলাদেশের মাদকসেবীরা সেবন করে ৬ থেকে ১০ ধরনের মাদক।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৪ কোটি। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, শতকরা ৪৪ ভাগ পথশিশু মাদক চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিশু মাদকাসক্ত এবং তাদের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ শিশু মাদক গ্রহণের খরচ মেটাতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।মাদকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত—সবখানেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা। গোপনে বিক্রি হলেও কিশোর-তরুণ এবং বয়স্ক মানুষ সবাই জানে কার কাছে, কীভাবে ইয়াবাসহ অন্য মাদক পাওয়া যাবে। মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ৩২টি জেলাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদক গ্রহণকারীর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সামাজিক কুসংস্কারের কারণে নারী মাদকসেবীরা চিকিৎসা গ্রহণে অনাগ্রহী। নারীদের মধ্যে মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই মায়েদের সন্তান হবে সবচেয়ে বিপদাপন্ন।
ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬৪৭ জন নারীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২৯ জন রোগী পুনরায় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা গ্রহণকারী নারীদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ইয়াবা, ২৮ শতাংশ গাঁজা, ১৬ শতাংশ ঘুমের ওষুধ, ১৫ শতাংশ অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাদক, ২ শতাংশ মদ, ২ শতাংশ ইনজেকশন পুশ করে শিরায় মাদক গ্রহণকারী।
সবচেয়ে আশঙ্কার কথা, এই রোগীদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ৩৪ শতাংশ, মুড ডিজঅর্ডার ৩০ শতাংশ, বাইপোলার ১২ শতাংশ, মানসিক বিকৃতি ১০ শতাংশ, ওসিডি ৬ শতাংশ ও বাকিরা অন্যান্য মানসিক রোগে আক্রান্ত।বাংলাদেশের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের হিসাবে দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৬ লাখ এবং সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী আছে ঢাকা বিভাগে। ঢাকার মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশেরই মাদকের হাতেখড়ি শিশু বয়সে। যদিও বেসরকারি হিসাবে, মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ লাখের কাছাকাছি বলে দাবি করে বিভিন্ন সংস্থা।
বাংলাদেশে মাদকের অপব্যবহার একটি সামাজিক এবং স্বাস্থ্য সমস্যা। শিশুর শারীরিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলে। এ নেতিবাচক প্রভাব পরিবার, সামাজিক নেতৃত্বদানকারী, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, সরকার ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। এ পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদকে আসক্ত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম। ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ২২৯টি স্পটে ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে। পথশিশুরা সাধারণত গাঁজা, ড্যান্ডি, পলিথিনের মধ্যে গামবেল্ডিং দিয়ে ও পেট্রল শুঁকে নেশা করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পথশিশুরা ক্ষুধার জ্বালা, একাকিত্বের কষ্ট বা সঙ্গদোষে বিভিন্ন ধরনের মাদক গ্রহণ করছে। তার মধ্যে অন্যতম মাদক ড্যান্ডি। পথশিশুদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্যান্ডি গ্রহণের অন্যতম কারণ হচ্ছে ক্ষুধা। ড্যান্ডি গ্রহণ করার পর তন্দ্রা ও ঘুম আসার ফলে ক্ষুধার কথা মনে থাকে না। সুতারাং শিশুদের স্কুল থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরেপড়া ও মাদকে আশক্ত হওয়ার প্রাথমিক কারণই হলো অভাব, ক্ষুদা ও পরিবারিক দারিদ্রতা।সুতরাং শিশুমনে দারিদ্রতার প্রভাবে প্রথমত, অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি, অল্প বয়সে মাদক গ্রহণের ফলে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারের মতো ব্যাধিতে আক্তান্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি ও নেশার কারণে ছিন্নমূল শিশুদের মানসিক বিকৃতি ঘটে। যার কারণে নেশার অর্থ জোগাড় করতে নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হয়ে খুন, ছিনতাই, ধর্ষণ, চুরি, পকেটমারি, মাদক কেনাবেচাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হয়। তৃতীয়ত, বিশালসংখ্যক শিশু অপরিণত বয়সে পথচ্যুত হওয়ায় শিক্ষাবঞ্চিত মেধা ও অপ্রস্ফুটিত প্রতিভা সমাজের কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
স্কুল বিমুখতা রোধে উদ্যোগ
বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠির শিশু, কিশোরদের মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে পারিবারিক সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকে কঠোর হাতে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, প্রতিবেশী দেশে মাদকের সহজলভ্যতা থেকেই পার্শ্ববর্তী দেশে তার প্রভাব পড়ে। শিক্ষা, সহমর্মিতা, ক্ষুধা ও বাসস্থানের বন্দোবস্তের পাশাপাশি পারিবারিক আবহ পেলে ছিন্নমূল ও দরিদ্র শিশুরা কখনো বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা নিম্নগামী হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের আগেই ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) নামে একটি প্রকল্প দু’দফায় গ্রহণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২য় দফায় কার্যক্রম সমাপ্তির পর ২০১৭ সালের জুন রস্ক-২ প্রকল্পের প্রতিবেদন প্রকাশ করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করানোর পদক্ষেপের সাফল্য দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকল্পটিতে স্কুল কমিটির সদস্য ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীদের ব্যপক অংশগ্রহণ পরীলক্ষিত হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায় কর্মসূচির অধীনে মোট ৭ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের আগেই ঝরেপড়া শিশুকে শিক্ষা প্রদান করা হয়। রস্ক প্রকল্পে মেয়ে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ছিল ৫০ শতাংশ। প্রকল্পে অনগ্রসর পরিবারের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ছিল ৮৫ শতাংশ। সেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর পাঠদান ও ঝরেপড়া রোধ সম্পন্ন হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়। উক্ত প্রকল্পে দেশের বিভিন্ন জেলার ৪৫ টি উপজেলা ও বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। প্রকল্প থেকে শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থী ৬৬ শতাংশের বয়স ৯-১০ বছরের মধ্যে। প্রকল্পে নারী শিক্ষকের সম্পৃক্ততা ছিল ৭৯.৮ শতাংশ। সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় কাঁচা স্কুলঘর, স্বল্প প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার পরও রস্ক প্রকল্পের শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রতি প্রায় ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবেদনে উক্ত প্রকল্পের বাইরেও কিছু জরিপ দেয়া হয়। জরিপে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণও বলা হয়। সেখানে বলা হয় পারিবারিক দারিদ্রতার কারণে আয়-উপার্জন সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫৬.৩ শতাংশ শিক্ষার্থী, বাবা-মা শিক্ষিত না হওয়ার কারণে গৃহস্থলির কাজে মনোযোগ দেয়ার কারণে ৪৪.৪ শতাংশ, স্কুলে পড়া বুঝতে না পারার কারণে ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী, বর্ষাকালে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ভূক্তভোগী হয়ে পাহাড়ী ও হাওড় অঞ্চলের ১২.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী, অন্য স্কুলে চলে যাওয়ার কারণে ৮.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও দুর্গম এলাকায় অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে ৭.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের আগেই ঝরে পড়ে।
এছাড়া সম্প্রতি তীব্র তাপপ্রবাহে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় নীতিমালা বা গাইডলাইন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে সহায়তা করছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ। চলমান তাপপ্রবাহ, বন্যা, নদী ভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিবেশগত অভিঘাতে পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে শিশুরা। শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে উচ্চতাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে জাতীয় গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে
পাঠকের মতামত:
- ধর্ষ/ণে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আরেক শিশু
- “আ.লীগ ফিরে আসবে”— চাঞ্চল্যকর দাবি সাবেক উপদেষ্টার
- নতুন পে-স্কেল: গ্রেডভিত্তিক সম্ভাব্য বেতন কাঠামো
- রামিসার মামলায় চার্জশিটে উঠে এলো যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ৩ প্রার্থী
- ঈদের দিন বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ‘কিচেন কেবিনেট’ নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক উপদেষ্টা
- ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর বড় মন্তব্য সেতুমন্ত্রীর
- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মক্কা
- গোপন বাঙ্কারে খামেনি! চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
- ‘হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন হাসনাত’—রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
- ‘ড্রেস কোড’ নিয়ে বেতারের সেই আদেশ বাতিল
- ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক, ক্ষুব্ধ জামায়াত
- এনআইডি বা ‘সুবর্ণ’ কার্ড থাকলেই মিলবে ছাড় মেট্রোরেলে
- পবিত্র আরাফাতের দিনে এবার ঘটতে যাচ্ছে এক বিরল ঘটনা
- রাসুল (সা.) যেভাবে কোরবানির মাংস বণ্টন করতেন
- তেলের দামে ধস, সোনায় রেকর্ড উত্থান
- জামিন পেলেন তারেক রেজা
- অনৈতিক সম্পর্কের জেরে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী এএসআর মৃত্যু
- ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
- হামলার ঘটনার তিন দিন পর যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- সাবেক ডেপুটি গভর্নর এখন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান
- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫
- ঈদের আগে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
- চীনে মর্মান্তিক কয়লা খনি দুর্ঘটনা, প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা
- ২৭ মে থেকে হঠাৎ বন্ধ সব ভারতীয় ভিসা সেন্টার!
- সিজেপির ওয়েবসাইট হঠাৎ ব্লক, নতুন ঠিকানার ঘোষণা
- এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা গ্রেফতার
- ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
- রামিসা হ/ত্যা মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ
- বাংলাদেশের ঋণ নিয়ে বড় সতর্কবার্তা এডিবির
- আ.লীগ নিষিদ্ধের তদন্ত নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর
- ঈদের ছুটিতে বড় পরিবর্তন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন সূচি প্রকাশ
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবার নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, রাতেই যুবক গ্রেপ্তার
- হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬ জনের মৃত্যু
- আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গ্রাহক ফোরামের চার দফা দাবি
- বিএটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং অভিযোগ
- স্থিতিশীল আউটলুকসহ হাওয়া ওয়েল টেক্সটাইলের রেটিং প্রকাশ
- বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকের বিশেষ পর্যবেক্ষণ
- বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রভাবে শিল্প প্লট বাতিল করল ম্যাকসনস স্পিনিং
- ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ফের উত্তেজনা, রাস্তায় নামলেন গ্রাহকরা
- বিক্রি কমায় মুনাফা থেকে লোকসানে জিপিএইচ ইস্পাত
- ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আ. লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে জামায়াত এমপি অতিথি
- পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধ/র্ষণের পর গর্ভপাত
- ঢাকায় মাংস কাটতে প্লেনে উড়ে আসছেন কসাইরা
- জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ঈদ স্পট প্রকাশ্যে
- ঈদের আগে টানা উত্থানে চাঙা শেয়ারবাজার
- শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২৪ মে ব্লকে পাঁচ কোম্পানির বড় লেনদেন
- ২৪ মে লেনদেনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই এলো নতুন আহ্বান
- শেয়ারপ্রতি ৫০ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- দুর্বল তিন কোম্পানির আর্থিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখবে ডিএসই
- শেয়ারবাজারে অনিয়ম: তিন কোম্পানির চেয়ারম্যান-পরিচালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- যেভাবে নর্তকীর নাম থেকে এলো জনপ্রিয় আমের নাম
- প্রভিশন ঘাটতিতে বিপর্যস্ত তিন ব্যাংক, প্রকৃত আর্থিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
- ব্যাংকের ডিভিডেন্ড নীতিতে নতুন কড়াকড়ি বাংলাদেশ ব্যাংকের
- দুইদিন পরেই ১২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের মালিকানা নির্ধারণ
- বিকাশ-নগদে টাকা পাঠাতে এলো নতুন নিয়ম
- শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ডিএসইর সতর্কবার্তা
- আ.লীগ নিষিদ্ধের তদন্ত নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর
- রায় মাথায় নিয়েই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা!
- শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ডিএসইর সতর্কবার্তা
- বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর













