×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

পাহাড় তলায় পরমাণু বিস্ফোরণ, এক ঘোষণায় চাঞ্চল্য

২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৪:৫১:৪৩
পাহাড় তলায় পরমাণু বিস্ফোরণ, এক ঘোষণায় চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কি শেষ পর্যন্ত এক বিধ্বংসী পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিতে যাচ্ছে? ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রক্ষণশীল সাংবাদিক টাকার কার্লসনের একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ওয়াশিংটন থেকে তেল আবিব, এমনকি মস্কো পর্যন্ত তীব্র কম্পন সৃষ্টি করেছে। কার্লসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে দেশটির ওপর কৌশলগত পারমাণবিক বোমা (ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার ওয়েপন) নিক্ষেপের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টেলিফোনে লাগাতার চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও পেন্টাগনের তথ্যমতে, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজগুলো মাটির কয়েকশো ফুট গভীরে শক্ত গ্রানাইট পাথরের পাহাড়ে স্থানান্তর করেছে, যার সামরিক কোডনেম দেওয়া হয়েছে ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’।

পেন্টাগনের সামরিক প্রকৌশলীদের পর্যালোচনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ১৪ টনের কনভেনশনাল বাংকার বাস্টার বোমা ‘GBU-57’ দিয়েও এই কঠিন গ্রানাইট শিলা ভেদ করে ভেতরে আঘাত হানা সম্ভব নয়। ফলে প্রচলিত কোনো বোমা দিয়ে এই স্থাপনা ধ্বংস করা যাবে না জেনেই নেতানিয়াহু মরিয়া হয়ে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন—যেন মার্কিন ভাণ্ডারে থাকা কৌশলগত পারমাণবিক বোমার অন্তত ৩ থেকে ৪টি এই পিক্যাক্স মাউন্টেনে ফেলা হয়।

টাকার কার্লসনের এই তথ্য ফাঁসের ঠিক আগের দিনই এক নির্বাচনী জনসভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা দেন, “ইরানের ভেতরে আমাদের কেবল দুটি টার্গেটে হামলা করা বাকি রয়েছে। আর সেই দুটি টার্গেট গুঁড়িয়ে দিতে আমাদের মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে।” সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত বিমান হামলায় মাটির এত গভীরের স্থাপনা ১০ মিনিটে ধ্বংস করা অসম্ভব; ট্রাম্পের এই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতই প্রমাণ করে যে পেন্টাগনের টেবিলে ইতিমধ্যে পারমাণবিক হামলার একটি ব্লু-প্রিন্ট বা ছক প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নেতানিয়াহুর চাপে পড়ে ইরানের ওপর ট্যাকটিক্যাল পরমাণু বোমা ব্যবহার করে, তবে ১৯৪৫ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে টিকে থাকা ‘পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা’ (Nuclear Taboo) চিরতরে ভেঙে যাবে। এর ফলে মারাত্মক ‘ডমিনো ইফেক্ট’ পড়বে ইউক্রেন যুদ্ধে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তখন এটিকে নজির হিসেবে ব্যবহার করে অনায়াসেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারবেন। এর রেশ ছড়িয়ে পড়তে পারে তাইওয়ান এমনকি ভারত-পাকিস্তানের কাশ্মীরেও, যা বিশ্বকে সরাসরি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড় করাবে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই সম্প্রতি ইউক্রেন ও রাশিয়ার লাখ লাখ সাধারণ মানুষের ফোনে একযোগে জরুরি অ্যালার্ট বেজে ওঠে। বার্তায় সতর্ক করে বলা হয়—‘পারমাণবিক হামলার চরম ঝুঁকি রয়েছে, দ্রুত আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে আশ্রয় নিন।’ এতে মধ্যরাতে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংকার ও মেট্রো স্টেশনের দিকে ছুটতে থাকে। পরবর্তীতে জানা যায়, কোনো বাস্তব হামলা নয়; বরং কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের হ্যাকাররা সিভিল অ্যালার্ট অ্যাপ হ্যাক করে এই ভুয়া সাইবার মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (Cyber Psychological Operation) চালিয়েছে।

এদিকে ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘মার-আ-লাগো’র কাছেই একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। বিমানটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পড়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে—তা নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। তবে ঘটনার পরপরই মার-আ-লাগোর নিরাপত্তা নজিরবিহীনভাবে বাড়ানো হয়েছে। ড্রোন বা ছোট বিমানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে রিসোর্টের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে শর্ট রেঞ্জের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং আকাশে টহল দিচ্ছে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান। ভেতরে ভেতরে মার্কিন গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ইরানের কোনো ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে।

সরাসরি কোনো পারমাণবিক বোমার বোতাম এখনো হয়তো টেপা হয়নি, তবে দৃশ্যপটের আড়ালে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ, সাইবার আক্রমণ ও বিধ্বংসী শক্তির এক বিপজ্জনক খেলা। ওয়াশিংটন, তেল আবিব, তেহরান ও মস্কোর এই চতুর্মুখী ভূ-রাজনৈতিক দাবা খেলায় কোনো একটি ভুল চাল পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে