×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

বালাম ও ন্যান্সির আবদার পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৩:৪২:১৪
বালাম ও ন্যান্সির আবদার পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতি গভীর টান, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হওয়া নিয়ে নানা জল্পনা এবং শিল্পীদের মূল্যায়ন নিয়ে একটি দীর্ঘ ও খোলামেলা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক হলেও কখনোই এমপি বা কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবির লোভ করেননি। একই সঙ্গে তিনি বিগত সরকারের আমলে ১৪ বছরের রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং সাম্প্রতিক এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে ন্যান্সি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ধানের শীষের কথা শুনে বড় হয়েছেন। তাঁর প্রয়াত মা জোৎস্না হক নেত্রকোনা জেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে নিজের রাজনৈতিক বোধ ও উপলব্ধি থেকেই বিএনপির প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।

তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, কোনো দলের সমর্থক হওয়া মানেই যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখা—এমন ধারণা একেবারেই ভুল। তিনি কখনোই সংরক্ষিত আসন বা কোনো নির্বাচনী পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেননি এবং দলের কারো কাছে কোনো দিন এমন আবদারও জানাননি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘বিএনপি ন্যান্সিকে মূল্যায়ন করল না বা সংরক্ষিত আসনে ডাকল না কেন?’ এর জবাবে ন্যান্সি বলেন, তিনি যা কখনো চাননি, তা না পাওয়ার জন্য দলের ওপর ক্ষোভ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক পদে যদি তাঁকে যোগ্য মনে করা হয়, তবে তিনি কাজ করতে প্রস্তুত; তবে তা হতে হবে মেধার ভিত্তিতে, কোনো রাজনৈতিক তদবিরে নয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি বছর ক্যারিয়ার থেকে হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় আর কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না। এরপরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি ‘নতুন কুঁড়ি’র বিচারক এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে, কোনো তদবির বা অনুরোধ ছাড়াই।

বিএনপি সংস্কৃতিবান্ধব নয়—এমন ঢালাও অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করে এই কণ্ঠশিল্পী দলের অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ‘নতুন কুঁড়ি’, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকের মতো জাতীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে জাতীয় নাট্যশালা, জাতীয় চারুকলা গ্যালারি এবং সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই বর্তমান নেতৃত্বও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি চার মাস আগের এক রাষ্ট্রীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, জীবনের প্রথম কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সম্মানীর চেক অনুষ্ঠান হওয়ার আগেই তাঁর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, যা বিগত সরকারের আমলে কল্পনাও করা যেত না।

সেই অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী বালামের সঙ্গে তিনি গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বালাম ভাইয়ের আহ্বানে সরকারপ্রধান স্বয়ং মঞ্চে আসেন এবং তাঁদের গান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। ন্যান্সির গাওয়া গান ও সংগীত অঙ্গনের সমস্যা নিয়েও তিনি কথা শোনেন। এই অনন্য অভিজ্ঞতার ছবি ফেসবুকে প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে ন্যান্সি বলেন, ছবি দিলে অনেকে হয়তো ভাবতেন ‘এখন তো ন্যান্সির সময়, সে সুযোগ নিচ্ছে’—সেই বিতর্ক এড়াতেই তিনি তা প্রচার করেননি।

সবশেষে ন্যান্সি আহ্বান জানান, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিল্পীদের কোণঠাসা ও বঞ্চিত করা যেমন চরম অন্যায় ছিল, একইভাবে নিজের দল অনুকূলে থাকলে বিশেষ সুযোগ নেওয়াও একটি খারাপ চর্চা। তিনি প্রত্যাশা করেন, বাংলাদেশের শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল তাঁদের মেধা, শিল্প ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই যেন মূল্যায়ন করা হয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর

উ
প
রে