×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যে কারণে হাসিনাকে আবু বকর নাটক দেখাতে চান ফাহাম আব্দুস সালাম

২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৩:১২:৫৯
যে কারণে হাসিনাকে আবু বকর নাটক দেখাতে চান ফাহাম আব্দুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমসাময়িক নানা বিষয়ে তীক্ষ্ণ, বিশ্লেষণধর্মী ও চটুল মতামতের জন্য পরিচিত বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফাহাম আব্দুস সালাম। সম্প্রতি পাকিস্তানের বহুল আলোচিত একটি ধারাবাহিক নাটক দেখে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও বিদ্রূপ প্রকাশ করে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন তিনি। নাটকের মানহীনতা, অবাস্তব চিত্রনাট্য এবং অতিরিক্ত ‘সিম্প কালচার’ নিয়ে দেওয়া তাঁর সেই ব্যঙ্গাত্মক স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

ফেসবুক পোস্টে ফাহাম আব্দুস সালাম জানান, চারপাশের ব্যাপক হাইপ ও আলোচনা দেখে কিছুটা সামাজিক চাপে পড়েই তিনি নাটকটি দেখতে বসেছিলেন। তাঁর কৌতূহল ছিল—‘কে এই আবু বকার? সে কি বিহারী?’

কিন্তু নাটকটি দেখতে বসে চরম অস্বস্তিতে পড়েন তিনি। মাত্র ২০ মিনিট দেখার পরই তাঁর মনে হয়েছিল, ‘ইয়ে মে ক্যায়া দেখ রাহা হুঁ?’। নিজের বিরক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি চরম উপহাসের সুরে লেখেন, “শেখ হাসিনাকে শাস্তি হিসেবে এই নাটক দেখানো উচিত!”

নাটকের বিষয়বস্তু ও নির্মাণশৈলী নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে বিশ্লেষক লেখেন, বিষয়বস্তুহীন চটকদার উপস্থাপনায় (Style without substance) ওপার বাংলার পরিচালক সৃজিত মুখার্জি যদি ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হন, তবে এই নাটকের লেখক ও পরিচালক হলেন ‘জুলিয়াস সিজার’ ও ‘চেঙ্গিস খান’। নাটকের মূল চরিত্রটিকে তাঁর মনে হয়েছে ‘সিম্পদের রাজা যেন অলিম্পিকে রেস দৌড়াচ্ছে’।

এছাড়া নাটকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন হার্ভার্ড পাকিস্তানেরই একটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের দেশের প্রাগ্রসর কোনো সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অক্সফোর্ড নিয়ে এমন অদ্ভুত মুগ্ধতা বা ফেটিশ থাকে না।

বাঙালি দর্শকদের নিজেদের দেশের কাজের প্রশংসা করার ক্ষেত্রে সংকোচের কথা উল্লেখ করে ফাহাম আব্দুস সালাম লেখেন, বাংলাদেশের ক্লাসিক নাটক যেমন—হুমায়ূন আহমেদের ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের বহুল প্রশংসিত ওটিটি সিরিজ ‘মহানগর’ বা ‘কাইজার’-এর নখের সমানও হতে পারেনি এই পাকিস্তানি প্রোডাকশন।

নাটকের একমাত্র ইতিবাচক দিক (Saving Grace) হিসেবে নায়িকাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ফাহাম রসিকতা করে বলেন, পর্দায় নায়িকা সুন্দর না হলে এমন চিত্রনাট্য বেশিক্ষণ দেখলে নিজেকে ‘মুনাফেক’ মনে হতো কিংবা চোখ নষ্ট হওয়ার জোগাড় হতো।

সবশেষে তরুণ সমাজ বা ‘ভার্জিনকুলে’র প্রতি বাস্তবধর্মী সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি লেখেন, নাটকের রোমান্টিক ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। তাঁর ভাষায়, “নারী জাতি চায় তার স্বামী আবু বকার হোক; কিন্তু অবিবাহিত অবস্থায় ১০০ ছেলের মধ্যে যদি ৯৯টি আবু বকার থাকে, তবে ওই ৯৯ জনকেই সে রিজেক্ট করবে—গ্যারান্টি দিলাম!” তাই নাটকের কাল্পনিক নায়িকার মোহে পড়ে বাস্তবে ‘সিম্প’ না হওয়ার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ফাহাম আব্দুস সালামের এই রসাত্মক ও চাঁছাছোলা পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও হাসির খোরাক জুগিয়েছে। অনেকেই তাঁর এই নির্মম পর্যালোচনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার নাটকের ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে