×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসী আয়ের নতুন পথ খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক, মালদ্বীপকে তিন প্রস্তাব

২০২৬ অক্টোবর ২২ ২১:২১:৪৭
প্রবাসী আয়ের নতুন পথ খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক, মালদ্বীপকে তিন প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের উপার্জিত অর্থ বৈধ পথে দেশে পাঠানো সহজ করা, লেনদেনের খরচ কমানো এবং ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ জন্য মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালুর বিষয়ে দেশটির মুদ্রা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এখন মালদ্বীপের কর্তৃপক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

উদ্যোগটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে দেশটিতে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপনের সম্ভাবনা এবং প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানোর সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা জানান, প্রবাসী আয় যেন আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে আসে, সে লক্ষ্যেই মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপনের চেষ্টা চলছে।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কয়েকটি ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের জন্য এসব ব্যাংকের কার্যক্রম একটি সম্ভাব্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালুর জন্য মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং দুই দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক প্রবাসী আয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে ১১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরে মালদ্বীপ থেকে আসা প্রবাসী আয় প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মালদ্বীপ থেকে দেশে এসেছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন জটিলতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য করা, লেনদেনের ব্যয় কমানো এবং অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার মাধ্যমে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে অর্থ পাঠানো আরও সহজ করতে তিনটি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৮ অক্টোবর মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির গভর্নরকে পাঠানো চিঠিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মুদ্রা কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিরাপদ, স্বচ্ছ, দক্ষ ও কম ব্যয়ের রেমিট্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

প্রথম প্রস্তাব: রুফিয়ায় লেনদেন নিষ্পত্তি

প্রথম প্রস্তাবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আওতায় উপযুক্ত ব্যবস্থা ব্যবহার করে মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়ায় লেনদেন নিষ্পত্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কার্যকর হলে মালদ্বীপ থেকে পাঠানো অর্থের বিপরীতে বাংলাদেশে উপকারভোগীরা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে সমপরিমাণ টাকা পেতে পারেন। এতে লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্বিতীয় প্রস্তাব: ভ্রমণসংক্রান্ত পরিশোধে রুফিয়ার ব্যবহার

দ্বিতীয় প্রস্তাবে মালদ্বীপের লাইসেন্সধারী ব্যাংক ও অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের যোগ্য ভ্রমণসংক্রান্ত পরিশোধ রুফিয়ায় করার সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো টাকাভিত্তিক কার্ড ইস্যু করবে এবং দুই দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তি হবে।

তৃতীয় প্রস্তাব: দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ

তৃতীয় প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ বা মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হলে দুই দেশের মধ্যে মুদ্রা বিনিময় ও লেনদেনের বিকল্প কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতি, আর্থিক কাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক শর্তের ওপর।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের আগে দুই দেশের আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধিদল গঠনের প্রস্তুতিও রয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রতিনিধিদল মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির সঙ্গে বৈঠক করে ব্যাংকের শাখা স্থাপন, রেমিট্যান্স পাঠানোর নিয়ম, লেনদেনের পরিচালনাগত কাঠামো এবং অর্থ নিষ্পত্তির পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের উপস্থিতি বাড়ানো এবং বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হলে প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন, খরচের সুবিধা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও চূড়ান্ত ব্যবস্থার ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে