×
ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

জুমার নামাজ শেষে মসজিদে বিয়ে, ওসমান হাদির ছবি ভাইরাল

২০২৬ অক্টোবর ২১ ২১:৪১:২১
জুমার নামাজ শেষে মসজিদে বিয়ে, ওসমান হাদির ছবি ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির বিয়ের দিনের একটি স্মৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিয়ের দিন বাবার আবা ও পাগড়ি পরে মসজিদে বিয়ে করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর বোন মাসুমা হাদি ফেসবুকে সেই স্মৃতির কথা তুলে ধরে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিতে ওসমান হাদিকে বাবার পোশাক ও পাগড়ি পরা অবস্থায় দেখা যায়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, “গায়ে আব্বার আবা, মাথায় আব্বার পাগড়ি, আমাদের ওসমান গনি বিয়ের সাজে।” তিনি জানান, জুমার নামাজ শেষে মসজিদে ওসমান গনির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। পোস্টের মন্তব্যে তিনি তাঁদের বাবা ২০১২ সালে মারা গেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

মাসুমা হাদির এই পোস্টের পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। কেউ ওসমান হাদির স্মৃতিচারণা করেছেন, আবার কেউ তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন তাঁকে মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার মতো ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

ওসমান হাদির বিয়ের দিনের এই স্মৃতিতে পরিবারের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। বাবার আবা ও পাগড়ি পরে বিয়ের আয়োজন করা ছিল তাঁর জীবনের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্ত। বোনের পোস্টের মাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি ও বর্ণনা আবারও সামনে এসেছে।

ওসমান হাদির বাবা শরীফ আব্দুল হাদি মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম ছিলেন। পরিবারের ছয় ভাইবোনের মধ্যে ওসমান হাদি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর জন্ম ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায়। তিনি নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা শুরু করেন। পরে ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠার পর সংগঠনটির মুখপাত্র ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

মামলাটি তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে মামলার বাদী অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্ত সিআইডির কাছে যায়।

ওসমান হাদির বিয়ের দিনের ছবিটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বাইরের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি সামনে এনেছে। বাবার পোশাক পরে বিয়ের সাজে দাঁড়ানো সেই মুহূর্তের কথা বোনের পোস্টে উঠে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে