×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে

২০২৬ অক্টোবর ২১ ২৩:৫৬:৩২
প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান এবং ২০২৫ সালের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ২৫ অক্টোবর, চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

এ কর্মসূচির বিস্তারিত জানিয়ে গত ৬ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

আবেদন করতে পারবেন যারা

বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি বা সমমানের শ্রেণিতে কিংবা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অথবা মেডিক্যাল কলেজে প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদনের সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও এ বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন।

আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বাবা অথবা মাকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণকারী হতে হবে অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে হবে। একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এসএসসি উত্তীর্ণদের প্রয়োজনীয় জিপিএ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিভাগ অনুযায়ী ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ থাকতে হবে। তবে প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর সন্তানদের জন্য এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৪ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে কমপক্ষে জিপিএ-৪.৭৫ প্রয়োজন হবে। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জন্য ন্যূনতম জিপিএ-৪ হলেই আবেদন করা যাবে।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৪ থাকতে হবে। এ বিভাগেও প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জন্য ন্যূনতম জিপিএ-৪ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এইচএসসি উত্তীর্ণদের ফলাফলের শর্ত

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাধারণভাবে কমপক্ষে জিপিএ-৪.৮০ থাকতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম জিপিএ-৪.৫০ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিভাগ নির্বিশেষে ন্যূনতম জিপিএ-৪ থাকলেই আবেদন করা যাবে।

ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা

২০২৫ সালের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৩.২৫ থাকতে হবে। তবে প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের জন্য এ যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে জিপিএ-৩।

আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে যেসব নথি

বৃত্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সেগুলো হলো—

১. প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টের কপি।

২. বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদের প্রমাণপত্র।

৩. সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্র।

৪. শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট।

৫. শিক্ষার্থীর ছবি ও স্বাক্ষর।

৬. জন্মনিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে ইস্যু করা অনাপত্তিপত্র বা এনওসি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীর নিজ নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে হিসাব থাকতে হবে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হিসাব এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না।

কোর্স অনুযায়ী বৃত্তির মেয়াদ

শিক্ষার স্তর ও কোর্সের ধরন অনুযায়ী বৃত্তি পাওয়ার মেয়াদ আলাদা করা হয়েছে।

এসএসসি ও সমমান উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর বৃত্তি পাবেন। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর।

এইচএসসি ও সমমান উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ডিগ্রি (পাস) কোর্সের জন্য তিন বছর এবং স্নাতক পর্যায়ে চার বছর বৃত্তি দেওয়া হবে।

এমবিবিএস, বিডিএস, ডিভিএম, বি.আর্ক ও অন্যান্য প্রযোজ্য কোর্সের শিক্ষার্থীরা পাঁচ বছর পর্যন্ত বৃত্তি পাবেন। অন্যদিকে, ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির মেয়াদ চার বছর।

যেভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওয়েবসাইট https://portal.wewb.gov.bd-এ প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। সরাসরি হাতে জমা দেওয়া বা ডাকযোগে পাঠানো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদন করার আগে প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টে থাকা নামের সঙ্গে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত সনদে উল্লেখ করা বাবা বা মায়ের নাম মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। নামের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। অসম্পূর্ণ আবেদন কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে করা আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে।

বৃত্তি বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রবাসী কল সেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে। বাংলাদেশ থেকে টোল ফ্রি ১৬১৩৫ নম্বরে এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০২০৩০৩০ নম্বরে ফোন করে তথ্য পাওয়া যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যাবে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে