×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ডিভি লটারিতে বাংলাদেশ কেন অযোগ্য? জানুন বিস্তারিত

২০২৬ অক্টোবর ২২ ১১:১১:২১
ডিভি লটারিতে বাংলাদেশ কেন অযোগ্য? জানুন বিস্তারিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। তবে নতুন লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডিভি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্য দেশের তালিকার বাইরে রয়েছে। ফলে নতুন লটারি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ মিলবে কি না, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ২০২৭ সালের ডিভি লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। এর আগে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে।

এ খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশে ডিভি লটারিতে আবেদনের সুযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই আবেদনপ্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং নিবন্ধনের সময় সম্পর্কে জানতে চাইছেন। তবে বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আসন্ন লটারিতে বাংলাদেশ যোগ্য দেশের তালিকায় থাকবে কি না। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করায় বাংলাদেশকে যোগ্য দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

ডিভি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, সেসব দেশের নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার বিধান রয়েছে। ডিভি লটারি সাধারণভাবে ‘গ্রিন কার্ড লটারি’ নামেও পরিচিত।

অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার তুলনায় ডিভি লটারির বিশেষত্ব হলো, এতে অংশ নেওয়ার জন্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব কিংবা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন হয় না। তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। নির্বাচিত আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

ডিভি লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য সাধারণত উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করা হয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে নিবন্ধনের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্য দেশের তালিকা, আবেদনপদ্ধতি এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে তাই এখন মূল প্রশ্ন, নতুন ডিভি লটারিতে দেশটি আবার যোগ্য দেশের তালিকায় ফিরবে কি না। আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাংলাদেশের যোগ্যতা নিশ্চিত করে না। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে যোগ্য ঘোষণা করা না হলে দেশটির নাগরিকদের আবেদনের সুযোগ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর

উ
প
রে