তিন ডজন মন্ত্রীর বিদায়ের ইতিহাস: ইশরাকের বিদায় যেভাবে ব্যতিক্রম
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন ইশরাক হোসেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নিজেদের দল বিএনপিকে অনাবশ্যক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতেই তিনি এই পদক্ষেপ বেছে নিয়েছেন। তবে পরিচালিত ওই অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে নিজের অবস্থান এখনো সঠিক বলেই দাবি করেছেন তিনি।
ইশরাকের এই আকস্মিক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের শাসনামলে এর আগেও মন্ত্রিসভা থেকে মোট তিনজন সদস্যের বিদায় নেওয়ার নজির তৈরি হলো। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সরকার আত্মপ্রকাশ করার সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন জহির উদ্দিন স্বপন, যাঁকে পরবর্তীতে গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদে স্থানান্তরিত করা হয়। এর পাশাপাশি, দায়িত্ব গ্রহণের মোটে তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পর স্বাস্থ্যগত অসুস্থতার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইশরাকের এই পদত্যাগটি বাংলাদেশের সরকারি মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীদের পদত্যাগ কিংবা অপসারণের দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় একটি সম্পূর্ণ নতুন ও ব্যতিক্রমী সংযোজন। কেননা, এর আগে কখনো প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে কোনো বিশেষ অভিযানে অংশ নেওয়ার মতো ঘটনার জেরে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার কোনো পূর্বদৃষ্টান্ত এ দেশে নেই।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা থেকে মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগ বা অপসারণের ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আমলে তৎকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর পদত্যাগের মাধ্যমেই মূলত স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো শীর্ষ মন্ত্রীর পদত্যাগের প্রথম ঘটনার সূচনা ঘটেছিল।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইশরাক হোসেনসহ বিগত বিভিন্ন শাসনামলে প্রায় তিন ডজনেরও বেশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ অথবা মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত হওয়ার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা রয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত) মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ বা অপসারণের ঘটনা ঘটেছিল মোট পাঁচজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ৩১ মে নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সন্তান তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তিনি জনসমক্ষে মন্তব্য করেছিলেন যে, মন্ত্রণালয়ের ভেতরে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো পরিবেশ তিনি পাচ্ছিলেন না এবং সরকারের ভেতরের প্রভাবশালী চক্র তাঁর সংস্কারমূলক কার্যক্রমে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করায় তিনি কেবল নামমাত্র মন্ত্রী হিসেবে পদে টিকে থাকতে চাননি।
এর ঠিক তিন বছর পর ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও রেল বিভাগের দুজন কর্মকর্তাসহ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থভর্তি একটি গাড়ি সরাসরি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে প্রবেশ করার ঘটনা ঘটে। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তিনজনকে আটক করলে তাঁরা দাবি করেন যে ওই সমস্ত অর্থ রেলমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রবল জনরোষ ও সমালোচনার মুখে পড়ে ১৬ এপ্রিল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। যদিও প্রধানমন্ত্রী তাঁর সেই পদত্যাগপত্র সরাসরি গ্রহণ না করে তাঁকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখেন এবং পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিবিড় তদন্ত শেষে তিনি ওই অভিযোগের দায় থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি লাভ করেন।
একই বছর অর্থাৎ ২০১২ সালের জুলাই মাসে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া ঘিরে ঘুস লেনদেনের ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ তুললে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। ওই সময় কানাডীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে ঘুস ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক আকস্মিকভাবে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করে। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংককে অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় পুনরায় ফিরিয়ে আনার বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমেই ২০১২ সালের ২৩ জুলাই নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান আবুল হোসেন। যদিও পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির সত্যতা বা প্রমাণ মেলেনি এবং ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খোদ কানাডার আদালত থেকেও সেই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯৭ সালেও তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে একবার পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে আয়োজিত এক বিশেষ প্রবাস অনুষ্ঠানে হজ, তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রী তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তাঁর ওই বক্তব্য দেশের ভেতরে জানাজানি হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়, যার প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে ওই বছরের ১২ অক্টোবর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
সবশেষ ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বেশ কিছু আপত্তিকর মন্তব্য এবং একাধিক ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে চরম সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই সমস্ত তীব্র বিতর্ক ও জনরোষের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশের ভিত্তিতে ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার–দলীয় জোট সরকারের আমলেও বাজারদর নিয়ন্ত্রণহীনতা ও বিভিন্ন দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মুখোমুখি হয়ে দুজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নিজ পদ ছাড়তে হয়েছিল। নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধে এরশাদ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ যখন সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করে, তখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসে বিএনপি (১৯৯১ থেকে ১৯৯৬)। এই মেয়াদে সরকারের দুই জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন এবং পরবর্তী ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছিল।
২০০৩ ও ২০০৪ সালের দিকে চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ দেশের সার্বিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেয়। সেই সময়ে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের নীতিগত দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এমন একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ নির্দেশে ২০০৪ সালের মার্চ মাসে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু।
এর ঠিক পরের বছর অর্থাৎ ২০০৫ সালের ১৪ জুন গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে কানাডীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নাইকোর কাছ থেকে প্রায় ৯০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের একটি বিলাসবহুল টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেছেন তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন। সেই সময়ে প্রতিমন্ত্রী একটি সরকারি সফরে উত্তর আমেরিকা অবস্থান করছিলেন। সফর সমাপ্ত করে ১৮ জুন দেশে ফিরে আসার দিন বিকেলেই নিজ পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন মোশাররফ হোসেন। নিজের এই রাজনৈতিক পতনের জন্য তিনি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সরাসরি দায়ী করেছিলেন।
তীব্র বিদ্যুৎ-সংকটের সময় অবশ্য পদত্যাগ নয়, বরং দপ্তরের রদবদল বা পরিবর্তনের মাধ্যমেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তৎকালীন সরকার। ২০০৫ ও ২০০৬ সালের দিকে তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশের শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন, যেখানে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকায় বিদ্যুৎ দাবিতে চলা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় সরকার চতুর্মুখী চরম চাপের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ মন্ত্রিপরিষদে দপ্তর পরিবর্তন করে তৎকালীন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে তুলনামূলক কম চাপের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বদলি করে মেয়াদের শেষ পর্যায়ে থাকা জোট সরকার কোনোমতে সেই সংকট সামাল দিয়েছিল।
নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকেও মন্ত্রিসভায় পদত্যাগের বেশ কিছু নজির রয়েছে। ১৯৯২-৯৩ সালের দিকে দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের জোরালো দাবিতে বিরোধী দলগুলোর লাগাতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন বিএনপি সরকার সেই ব্যবস্থার কড়া বিরোধিতা করছিল। কিন্তু এই অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী নাজমুল হুদা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করা কিংবা অন্তত তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার পক্ষে নিজ মতামত প্রকাশ করেন। মন্ত্রিসভার একজন সদস্য হয়েও সরকারের দাপ্তরিক পলিসির সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কঠোর নির্দেশে ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয়।
এরপর ১৯৯৫ সালের সূচনায় বোরো মৌসুমের ঠিক প্রাক্কালে দেশে কৃত্রিম সারের তীব্র সংকট দেখা দিলে কৃষকেরা রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন। ওই বছরের মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় সার দাবিতে চলা বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন কৃষক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই তীব্র জনরোষ ও সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী জহিরউদ্দিন খানকে।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য হতে হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ আবুল হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী আফসারউদ্দিন আহমদ।
১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা যশোরে উদীচীর জাতীয় সাংস্কৃতিক সম্মেলনে একটি ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম ওই হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডের উৎস ও প্রকৃতি নিয়ে মন্তব্য করে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেন। পরবর্তীতে তাঁর এই অপরিপক্ব বক্তব্যের জেরে তাঁকে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়।
ওই একই সরকারে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছোট ভাই আফসার উদ্দিন আহমদ। ১৯৯৬ সালের শেষ দিক এবং ১৯৯৭ সালের শুরুর দিকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বড় বড় বস্তিতে বিকল্প কোনো পুনর্বাসনের পূর্বব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, যা নিয়ে মানবাধিকার ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই সংকটের মধ্যেই বিদেশ সফরে চলে যান মন্ত্রী আফসার উদ্দিন। তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ডেকে সরাসরি পদত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করেন এবং তাঁর নির্দেশেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে নিজ সরকারি দায়িত্বে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত কূটনৈতিক পাসপোর্টের পাশাপাশি নিজের সাধারণ সবুজ পাসপোর্টটি সম্পূর্ণ গোপনে লুকিয়ে রেখে তা ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমে এই অনিয়মের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশেই ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এদিকে, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দীর্ঘ সামরিক ও স্বৈরশাসনের আমলে মন্ত্রিসভায় প্রায় নিয়মিতভাবেই ঘনঘন রদবদল ঘটত। এমনকি এরশাদ নিজের পছন্দের খাতিরে সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদেও বারবার পরিবর্তন আনতেন।
ওই সময়ে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন বিশিষ্ট আমলা ও খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনা, জাতীয় বাজেট বরাদ্দসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মৌলিক মতপার্থক্যের কারণে ১৯৮৪ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন।
এর ঠিক একই বছরের মার্চ মাসে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান আতাউর রহমান খান। কিন্তু সামরিক শাসক এরশাদের সঙ্গে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় মাত্র ৯ মাস দায়িত্ব পালনের মাথাতেই তাঁকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সরকারের তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা আবদুল মজিদ খানের প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজসহ সারা দেশে তুমুল আন্দোলন গড়ে উঠলে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর গুলিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হন এবং দেশজুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। আন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকার শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কিত শিক্ষানীতি স্থগিত করতে পুরোপুরি বাধ্য হয়েছিল। ওই বছরের শেষ ভাগে এসে আবদুল মজিদ খানকে পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮৪ সালের জুনে তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তার পরের বছর মন্ত্রিসভা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়ে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
১৯৮৬ সালের মে মাসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে অবশ্য খুব বেশি দিন সেই পদে রাখা হয়নি এবং ১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়। সে সময় ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে প্রেরিত এক কূটনৈতিক তারবার্তায় তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যক্তিত্ব ও যেকোনো বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একরোখা প্রবণতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা তাঁর সহকর্মীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছিল।
মিজানুর রহমান চৌধুরী ১৯৮৬ সালের জুলাই মাসে এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর মসনদে আসীন হন। কিন্তু দুই বছরের মাথাতেই ১৯৮৮ সালের মার্চ মাসে তাঁকেও নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। সমসাময়িক বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও সরকারি গোপন নথিপত্রে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে যে, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত অত্যন্ত বিতর্কিত ও একতরফা সংসদ নির্বাচনের পর বিরোধী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা এবং প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের গোপন কৌশলের একটি অংশ হিসেবেই তাঁকে মূলত সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এর পরবর্তীতে সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মওদুদ আহমদ। কিন্তু ১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে উপরাষ্ট্রপতি করা হলে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান কাজী জাফর আহমদ। সে সময়ের বিভিন্ন অবমুক্ত মার্কিন কূটনৈতিক নথিপত্রে মওদুদ আহমদকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ওপর খোদ এরশাদের একক নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করা এবং ক্ষমতাসীন জাতীয় পার্টির ভেতরের কট্টরপন্থী অংশটিকে রাজনৈতিকভাবে সন্তুষ্ট করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবেই এই রদবদলকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
১৯৯০ সালের মার্চ মাসে এরশাদের নিজস্ব মন্ত্রিসভা থেকে পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে পদত্যাগ করেন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার। সে সময়ের গোপন মার্কিন নথিপত্রে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি, চরম আর্থিক বিশৃঙ্খলা এবং দেশের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক বিরোধী আন্দোলন কঠোরহস্তে দমন করার সরকারি নীতির কারণে তাঁর ব্যক্তিগত অস্বস্তি ও অসন্তোষের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এদিকে, স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার পরিচালনার সময়েও মন্ত্রিসভার ভেতর মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নজির রয়েছে। ১৯৭৩ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর পদত্যাগের ঘটনাটি ছিল সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক ঘটনা।
সে সময় মিজানুর রহমান চৌধুরী একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছিলেন। রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে বিদেশ থেকে প্রেরিত বিভিন্ন জরুরি ত্রাণসামগ্রী দুর্গত সাধারণ মানুষের ঘরে না পৌঁছে সরাসরি খোলা বাজারে বিক্রি ও বিদেশে পাচার করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে দেশের সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই সমস্ত প্রকাশিত অভিযোগে তৎকালীন মন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের নামও সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। এই প্রকাশিত খবরের তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে বঙ্গবন্ধু তাঁকে ডেকে তৎক্ষণাৎ পদত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করেন বলে ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিবরণে বিশদভাবে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর মন্ত্রিসভা থেকে আরও একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আলোচিত পদত্যাগের ঘটনা ছিল দেশের তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের। ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে গুরুদায়িত্ব পালন করা তাজউদ্দীন স্বাধীনতার অব্যবহিত পর বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় দেশের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতি ও রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিষয়ে দুজনের মধ্যকার দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকলে ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব নির্দেশে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন।
এদিকে, উইকিলিকসের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া ১৯৭৪ সালের ৮ জুলাই তারিখের একটি গোপন মার্কিন কূটনৈতিক নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয় যে, তার আগের দিন অর্থাৎ ৭ জুলাই বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন মন্ত্রিসভার ছয়জন মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী একত্রে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। পদত্যাগকারী মন্ত্রীরা হলেন—শেখ আবদুল আজিজ, শামসুল হক, মোল্লা জালাল উদ্দীন আহমেদ, মতিউর রহমান, এম এ জি ওসমানী এবং মফিজ চৌধুরী; আর পদত্যাগকারী প্রতিমন্ত্রীরা হলেন—আমিরুল ইসলাম, নূরজাহান মুর্শিদ এবং আবদুল মালেক খান।
ওই গোপন মার্কিন নথিতে বলা হয়েছিল যে, একসঙ্গে এতগুলো পদত্যাগ ঘটার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট একক কারণ বা সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিক কোনো ধরন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রীদের মধ্যে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগের গুঞ্জন ছিল এবং এম এ জি ওসমানী দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দপ্তরে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
তাছাড়া, প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলেও মন্ত্রীসভা থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঐতিহাসিক নজির দেখতে পাওয়া যায়। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠার পর দল ও সরকারের অভ্যন্তরে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক ধারার প্রভাব ও আধিপত্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ১৯৭৮ সালের ১১ অক্টোবর মন্ত্রিসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগ কিংবা অপসারণের মূল কারণগুলোর পেছনে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, বেফাঁস ও বিতর্কিত জনবক্তব্য, নীতিনির্ধারণী বিষয়ে মতবিরোধ এবং তীব্র রাজনৈতিক চাপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। যুগের পর যুগ ধরে চলা এসব ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাটি একটি স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করেছে, যার মূল বৈশিষ্ট্য হলো মাদকবিরোধী কোনো ঝটিকা অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে নিজে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অংশ নেওয়ার নজিরবিহীন পরিণতি।
সিরাজ/
পাঠকের মতামত:
- তিন ডজন মন্ত্রীর বিদায়ের ইতিহাস: ইশরাকের বিদায় যেভাবে ব্যতিক্রম
- চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ব্যাংকের ভল্ট থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা উধাও!
- ছয় গ্রুপের পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের নতুন উদ্যোগ
- ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ফুডপান্ডার স্বস্তি
- ব্যাংকে বাড়ছে আমানত, কমছে সুদ; চাপে সঞ্চয়কারীরা
- টিকিট মিলছে না যাত্রীদের, রেলওয়ের ভেতরে কী চলছে?
- সুখবর! সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
- ড. ইউনূস থেকে ইলন মাস্ক—রাবণের পোস্টারে যাঁদের ছবি
- বিমায় জালিয়াতি ও জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে কড়া নিয়ম জারি
- উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিনের ভালোবাসার আবেগঘন গল্প
- বিদেশে বাংলাদেশিদের ব্যয়ের ধারেকাছেও নেই বিদেশিরা
- অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় মাদকসহ আটক নারী-পুরুষ ৮৪
- মৃত্যুর গুজবের মধ্যেই প্রকাশ্যে হাজির কিম জং উন
- ১৫ টাকার শেয়ার ৪২ টাকা, তারপর ১১ টাকা: ডাবল ধাক্কায় সর্বশান্ত বিনিয়োগকারীরা
- সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সুইটিকে নিয়ে মুখ খুললেন নজরুলের বাবা
- ‘আমার চাকরি নিয়ে আমার চেয়ে বেশি টেনশন তাদের’
- দীর্ঘদিন লে-অফের পর কেয়া গ্রুপে নতুন সিদ্ধান্ত
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য
- ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- ইশরাকের পদত্যাগকে যেভাবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক নজরে
- মক্কা-মদিনা ছাড়া সৌদির আকাশসীমা অনিরাপদ ঘোষণা
- সামনে এলো নজরুলের পুরোনো ফেসবুক পোস্ট
- নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পর ইশরাকের বিস্ফোরক পোস্ট
- ডলারের বাজারে বড় পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংকের
- ‘আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে’
- ইশরাক বিতর্কের মাঝেই ববি হাজ্জাজের অনুসারীদের অভিযান
- যেভাবে গ্রেফতার হলেন ফজলুল হক আমিনী
- সরবরাহ সংকট কাটিয়ে মুনাফায় ফিরছে রানার, ডিভিডেন্ড বৃদ্ধিতে বাধা কোথায়?
- মুনাফায় উল্লম্ফন, সম্পদমূল্য বৃদ্ধি—প্রিমিয়ার সিমেন্টের ডিভিডেন্ডে নতুন সম্ভাবনা
- আয় ও সম্পদমূল্য বাড়লেও যে কারণে ডিভিডেন্ড বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা
- ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি স্বামী -স্ত্রী, জানা গেল আসল সত্য
- সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন
- তিন ব্যাংকের এমডিদের নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত
- তৃণমূল থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়ে ওঠা ইশরাকের বর্ণাঢ্য পথচলার গল্প
- ৪৭–১৩ গোলের হার, বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
- ৮ মাসে কপাল পুড়ল তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর
- ব্যাংকিং খাতে সরকারের বড় সাহসী সিদ্ধান্ত
- ইশরাকের পদত্যাগ ও স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন জল্পনা
- কেয়া কসমেটিকসকে ঋণ দিয়ে বিপাকে শেয়ারবাজারের চার ব্যাংক
- ভারতের শেয়ারবাজারে কালোমেঘ: উধাও ৪ লাখ কোটি রুপি
- আইসিসির নতুন নিয়মে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কেন বিপাকে?
- জাপানের শ্রমবাজারে কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ-জাপান নতুন চুক্তি
- টিকটক ও ফ্রি ফায়ারের টানে ঘরছাড়াও ৩ শিক্ষার্থী
- লাফার্জহোলসিমের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- বাংলাদেশি পাসপোর্টেই ভিসা ছাড়াই ৩৫ দেশে ভ্রমণ
- তেলের দাম কমতেই স্বর্ণের বাজারে উল্টো চিত্র!
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের সোনার দামের নতুন তালিকা
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার আজকের দাম জেনে নিন
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার নতুন দাম প্রকাশ
- পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারে বড় উত্থানের পূর্বাভাস গবেষণা প্রতিষ্ঠানের
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক নজরে
- শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ
- সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শির'চ্ছেদ যা বললেন শায়খ
- ডিভিডেন্ড বিতরণ না করায় ৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- শেয়ারবাজারের ১৭০০ কোটি টাকার দায়িত্ব নিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান
- ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ বিএসইসির
- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৩৪ কোম্পানি
- সালভো কেমিক্যালের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশ করবে ১৯ কোম্পানি
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর
- তিন ডজন মন্ত্রীর বিদায়ের ইতিহাস: ইশরাকের বিদায় যেভাবে ব্যতিক্রম
- চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী













