×
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মুকেশ আম্বানিকে প্রধানমন্ত্রী বলে খোঁচা মাস্কের, নেপথ্যে বিতর্ক

২০২৬ অক্টোবর ১০ ০৯:৫৩:৩৭
মুকেশ আম্বানিকে প্রধানমন্ত্রী বলে খোঁচা মাস্কের, নেপথ্যে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ভারতে তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের কার্যক্রম চালু করা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বিষয়টি ঘিরে প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক আম্বানিকে উদ্দেশ করে লেখেন, ভারতের প্রকৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তি যে তিনি—তা বুঝতে না পারার জন্য তিনি দুঃখিত। একই পোস্টে আম্বানির কাছে জানতে চান, ভারতের বাজারে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না।

মাস্কের বক্তব্যে ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের বাজার-আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে মুকেশ আম্বানি ব্যক্তিগতভাবে স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছেন—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

স্টারলিংক হলো স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা। প্রচলিত স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্কের বাইরে, বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়াই এ সেবার অন্যতম লক্ষ্য।

মাস্কের দাবি, ভারতের অনেক এলাকায় এখনো নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সুবিধা নেই। এর ফলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ হারাতে পারে। স্টারলিংক চালু হলে এসব ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।

ভারতের বাজারে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্টারলিংকের পাশাপাশি রয়েছে ভারতী-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড। ফলে বাজারটিতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই টেলিকম লাইসেন্স দিয়েছে। তবে স্যাটেলাইট সেবা চালু করতে তরঙ্গ বরাদ্দ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণের মতো আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

গত বুধবার এক ব্যবহারকারীর মন্তব্যের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী স্টারলিংকের কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান ভারতের আইন ও শর্ত মেনে কাজ করার পরও কেন সেবা চালুর অনুমতি পায়নি।

মাস্কের অভিযোগের জবাবে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার ক্ষেত্রে দেশটির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। নিয়ম বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও মন্ত্রণালয় নাকচ করেছে।

মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর দাবি, ভারতে স্টারলিংক চালুর অনুমতি দেওয়া হলে জরুরি যোগাযোগ, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সুবিধা বাড়তে পারে।

তবে সেবাটি চালুর সময়সীমা, চূড়ান্ত অনুমোদন এবং বাজারে প্রতিযোগিতার শর্ত কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

সব মিলিয়ে, ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশের বিষয়টি শুধু প্রযুক্তিগত অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং বাজারে প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নও জড়িয়ে পড়েছে। মাস্কের অভিযোগ ও ভারত সরকারের বক্তব্যের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় স্টারলিংকের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে