×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ০৯:৫৩:০১
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একক মাস হিসেবে এটি এযাবৎকালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির মধ্যে অন্যতম।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৫০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। প্রথম দুই মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানিকে ১২ মাসের গড় হিসেবে ধরলে মাসিক গড় ছিল ৬৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় আগের অর্থবছরের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে এই বাড়তি গতির পেছনে আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে। ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্য রপ্তানি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, টেক্সটাইল ও সুতা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং জুতা। এসব পণ্যের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের অর্ডার আগামী মাসগুলোতে আরও বাড়তে পারে। পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, শীতকালীন পোশাকের অর্ডারের কার্যাদেশ দেওয়ার শেষ সময় হওয়ায় আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে। বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফজলুল হকের মতে, আগের কয়েক মাসের তুলনায় আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ভালো অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো গেলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং দেশের উদ্যোক্তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন। তবে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারের নীতি-ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বর্তমানে যে গতিতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি হচ্ছে, তা আশাব্যঞ্জক। এই গতি আগামী ১২ মাস অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হওয়ায় সেখানে রপ্তানি সম্প্রসারণে পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্য সংযোজন ও মানোন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে জ্বালানিসহ অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তা দেশের পোশাক খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাকের বাইরে চামড়া, পাট, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশলসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে