×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে, তবুও মিলল না কোনো ক্রেতা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ০৮:১৪:৩৭
বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে, তবুও মিলল না কোনো ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা বিপুল সম্পত্তি নিলামে তোলা হলেও কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ৯৯৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে সরকারি রূপালী ব্যাংক এসব সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নেয়। নিলামের তালিকায় গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা প্রায় ২৬ একর জমিসহ বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাখা হয়েছিল।

নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা। নির্ধারিত সময় শেষে দরপত্র জমা দেওয়ার বাক্স খোলা হলে দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই সম্পত্তিগুলো কেনার জন্য আবেদন করেনি। এর আগে জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলেছিল। সেসব নিলামেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।

রূপালী ব্যাংক চলতি বছরের ১৪ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে ব্যাংকের ৯৯৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এই অর্থের মধ্যে অনাদায়ী সুদ অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ অর্থ আদায়ের জন্য বন্ধক রাখা সম্পত্তিগুলো যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থাতেই নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বেক্সিমকো লিমিটেড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ৩ হাজার ১০৯ কোটি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৩ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের ৯৯৩ কোটি টাকা পাওনার বিপরীতেই সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলো নিলামে তোলা হয়েছে।

এই ঋণ প্রথমে বেক্সিমকোর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান পদ্মা ও বেক্সিমকো নিটিংয়ের নামে নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠান দুটি একীভূত হয়ে বেক্সিমকো টেক্সটাইলে বা বেক্সটেক্সে রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে বেক্সটেক্সও বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত করা হয়।

নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জের তারাব ও যাত্রামুরা মৌজায় থাকা বেক্সিমকোর বন্ধকী জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তারাব মৌজার দুটি অংশে মোট ৮ দশমিক ৩৯ একর এবং যাত্রামুরা মৌজায় আরও ৯ দশমিক ২ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ এসব তফসিলেই নারায়ণগঞ্জে মোট ১৭ দশমিক ৪১ একর জমির বিবরণ রয়েছে। এর পাশাপাশি গাজীপুরে ৮ দশমিক ৫৫ একরসহ বিভিন্ন এলাকার আরও জমি নিলামের তালিকায় রাখা হয়েছিল।

গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তফসিলের জমির উল্লেখ রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। কোনো কোনো তফসিলে জমির পরিমাণ একরে, আবার কোথাও শতাংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পত্তির বিপরীতে নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দরপত্র জমা না পড়ায় নিলাম প্রক্রিয়াটি ক্রেতাশূন্য থাকে।

বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, এ ধরনের নিলাম অনেক সময় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে করা হয়। তার মতে, সাধারণত এমন নিলামে আগ্রহী ক্রেতা না-ও আসতে পারেন। তবে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকের হাতে থাকা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নিলাম আয়োজন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে এবং বর্তমানে তা পরিশোধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাংক গ্রাহকের বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তুলেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ আদায়ের জন্য বেক্সিমকোর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি প্রচলিত প্রক্রিয়ায় এগোনোই ব্যাংকের করণীয়।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে