×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাকরিজীবীদের জন্য বড় খবর, ইনক্রিমেন্টে আসছে নতুন নিয়ম

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১২:২৪:০০
চাকরিজীবীদের জন্য বড় খবর, ইনক্রিমেন্টে আসছে নতুন নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন জাতীয় পে-স্কেলে বেতন ও বিভিন্ন ভাতার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন কাঠামোয় সব গ্রেডে একই হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তন করে উচ্চতর গ্রেডে ইনক্রিমেন্টের হার ধাপে ধাপে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, মোবাইল, যাতায়াত ও টিফিন ভাতাসহ বেশ কয়েকটি সুবিধায় পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাবেন। তবে গ্রেড-৫-এ এই হার হবে ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন।

সশস্ত্র বাহিনীতেও একই ধরনের কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনাও বাতিল হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রণোদনা প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় বর্তমানে থাকা ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। এতে গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাড়িভাড়া ভাতাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এই হার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে বাড়িভাড়ার শতাংশ কমলেও মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভাতার প্রকৃত টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে। অর্থাৎ মূল বেতন বাড়িয়ে এবং ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করে মোট আর্থিক সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় এই সময় কমিয়ে ৮ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে একই গ্রেডে আরও ৬ বছর চাকরির শর্ত রাখা হয়েছে।

পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরত চাকরিজীবীরা পদোন্নতি না পেলে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাবেন। আর যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ‘ব্লকড পদ’ হিসেবে বিবেচিত, সেসব পদে কর্মরতরা চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

চিকিৎসা ভাতাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে সব সরকারি কর্মচারী মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সীরা ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পেতে পারেন।

পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনভোগীরা মাসে ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার প্রস্তাবের আওতায় থাকবেন।

নতুন কাঠামোয় প্রথমবারের মতো সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই রাখার কথা বলা হয়েছে, তবে এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে।

ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিদ্যমান হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নন-কমব্যাট্যান্ট (এনরোল্ড) বা এনসি (ই) এবং সমতুল্য পদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১ হাজার টাকা এবং মেজর জেনারেল ও সমপদে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদকে গ্রেড-২ এবং কর্নেল ও সমপদকে গ্রেড-৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বিমানবাহিনীর ফ্লাইং পে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। কমান্ড, স্টাফ, টিচিং, কোয়ালিফিকেশন, ডিস্টার্বেন্স ও বিশেষজ্ঞ বেতন ১০ শতাংশ এবং দক্ষতা, নিযুক্তি, প্যারাসুট, কমান্ডো বা স্নাইপার, স্কুবা ডাইভিং ও সদাচরণ বেতন ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জরিপ ভাতা ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হতে পারেন। নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হলেও মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে