×
ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহাপ্রলয় এলেও মানবজাতি বাঁচিয়ে রাখবে অস্ট্রেলিয়া 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১১:৪২:৪৪
মহাপ্রলয় এলেও মানবজাতি বাঁচিয়ে রাখবে অস্ট্রেলিয়া 

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুদ্ধ, মহামারি, পারমাণবিক দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো বড় বিপর্যয়ে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোন দেশগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি প্রস্তুত এবং দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে—এ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে এমন বিপর্যয়কে ‘গ্লোবাল ক্যাটাস্ট্রফিক রিস্ক’ বা বৈশ্বিক বিপর্যয়জনিত ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনো বড় ঘটনা যদি বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন ও সভ্যতার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করে, তখন সেটিকে এই ধরনের ঝুঁকির আওতায় দেখা হয়।

সাম্প্রতিক এক গবেষণার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বড় ধরনের বৈশ্বিক বিপর্যয়ের সময় তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দেশ দুটি কোনো ধরনের বৈশ্বিক বিপর্যয় থেকে পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে।

গবেষকদের বিশ্লেষণে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্বের প্রধান জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্র থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তুলনামূলকভাবে দূরে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বা অন্য বিপর্যয় ঘটলে সরাসরি প্রভাব কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাদ্য উৎপাদন ও প্রাকৃতিক সম্পদ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিস্তৃত কৃষিজমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। বড় ধরনের বৈশ্বিক সংকটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেও নিজেদের খাদ্যের একটি বড় অংশ উৎপাদনের সক্ষমতা তাদের কিছুটা সুবিধা দিতে পারে।

জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ক্ষেত্রেও দেশ দুটির নিজস্ব সক্ষমতা রয়েছে। সংকটের সময় বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়লে এ ধরনের সম্পদ একটি দেশের টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংকটে একটি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠান থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, খাদ্য ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা চালু রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

এই দিক থেকেও অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে বিবেচনা করা হয়েছে।বিশ্লেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বৈশ্বিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো দেশকেই পুরোপুরি নিরাপদ বলা যায় না।

আধুনিক বিশ্বের দেশগুলো অর্থনীতি, খাদ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে পৃথিবীর একটি অংশে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংকটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেলে বা জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কমে গেলে দূরবর্তী দেশগুলোকেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তাদের তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে পারে। তবে বৈশ্বিক বিপর্যয়ের মাত্রা ও ধরন অনুযায়ী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।

ফলে বড় কোনো বিপর্যয় মোকাবিলায় শুধু ভৌগোলিক অবস্থান বা প্রাকৃতিক সম্পদই যথেষ্ট নয়। একটি দেশের সামাজিক সংহতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সংকটের সময় মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বৈশ্বিক মহাসঙ্কটের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা তাই শুধু কোন দেশ সবচেয়ে নিরাপদ—এই প্রশ্নই সামনে আনছে না; বরং এমন পরিস্থিতিতে মানবসমাজ কীভাবে একসঙ্গে টিকে থাকতে পারে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে নিয়ে আসছে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে