×
ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই দিয়ে একটি ছবি বানাতে কতটা পানি খরচ হয় জানুন 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১০:৪৫:৩৫
এআই দিয়ে একটি ছবি বানাতে কতটা পানি খরচ হয় জানুন 

নিজস্ব প্রতিবেদক: কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা যাচ্ছে নানা ধরনের ছবি। নিজের কার্টুন সংস্করণ থেকে শুরু করে কল্পনার চরিত্র কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য আকর্ষণীয় ছবি—জেনারেটিভ এআইয়ের মাধ্যমে এসব তৈরি এখন বেশ সহজ। তবে এই ছবিগুলো তৈরির পেছনে যে বিপুল কম্পিউটিং শক্তি, বিদ্যুৎ এবং পানি ব্যবহৃত হতে পারে, সে বিষয়টি অনেকেরই অজানা।

এআই নিজে সরাসরি পানি ব্যবহার করে না। মূলত এআই পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ডাটা সেন্টারের শক্তিশালী সার্ভারগুলো ঠান্ডা রাখতেই পানির প্রয়োজন হতে পারে। এআই মডেল প্রশিক্ষণ কিংবা ছবি তৈরির সময় সার্ভারগুলো প্রচুর পরিমাণে গণনামূলক কাজ করে এবং এতে তাপ উৎপন্ন হয়। সেই তাপ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কুলিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, যার কিছু ব্যবস্থায় পানি প্রয়োজন হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের পানি ব্যবহারের পরিমাণ নির্দিষ্ট কোনো একক সংখ্যায় প্রকাশ করা কঠিন। কারণ এটি নির্ভর করে ব্যবহৃত মডেলের ধরন, ডাটা সেন্টারের অবস্থান, স্থানীয় আবহাওয়া, কুলিং প্রযুক্তি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

একটি বহুল আলোচিত গবেষণায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মাঝারি আকারের একটি জেনারেটিভ এআই মডেলে কয়েক ডজন অনুরোধ বা প্রম্পট চালানোর জন্য প্রায় আধা লিটার পানির সমপরিমাণ ব্যবহার হতে পারে বলে হিসাব করা হয়েছিল। তবে এই হিসাবকে প্রতিটি এআই ছবি তৈরির ক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগ করা যায় না। অর্থাৎ ‘একটি ছবি তৈরি করলেই ঠিক এত মিলিলিটার পানি খরচ হয়’—এমন নির্দিষ্ট দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

ছবি তৈরির ক্ষেত্রে পানির ব্যবহার আরও বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। একটি সাধারণ ছবি তৈরিতে তুলনামূলক কম কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন হলেও উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি তৈরি, একই ছবির একাধিক সংস্করণ বানানো কিংবা বারবার নতুন করে ছবি জেনারেট করলে সার্ভারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এর সঙ্গে বাড়তে পারে বিদ্যুৎ ও কুলিংয়ের প্রয়োজনও।

এ ছাড়া এআইয়ের পানি ব্যবহারের হিসাব শুধু ডাটা সেন্টারের কুলিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডাটা সেন্টার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও অনেক সময় পানি ব্যবহৃত হয়। ফলে এআইয়ের সামগ্রিক ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ হিসাব করতে সরাসরি ও পরোক্ষ—দুই ধরনের পানির ব্যবহার বিবেচনায় নিতে হয়।

ডাটা সেন্টার যদি এমন এলাকায় স্থাপন করা হয় যেখানে আগে থেকেই পানির সংকট রয়েছে, তখন বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতেও পানির চাহিদা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এআই ও ডাটা সেন্টারের পানি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

তবে এ কারণে এআই দিয়ে ছবি তৈরি পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং অপ্রয়োজনীয়ভাবে একই ছবি বারবার তৈরি না করা, সামান্য পরিবর্তনের জন্য অসংখ্যবার ছবি জেনারেট না করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এআই ব্যবহার করার মাধ্যমে অপচয় কমানো সম্ভব।

একই সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও পানি কম ব্যবহার করে এমন কুলিং প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কম শক্তি প্রয়োজন হয় এমন এআই মডেল তৈরির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তি কতটা পরিবেশবান্ধব হবে, তা অনেকাংশেই এসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে।

অর্থাৎ একটি এআই ছবি তৈরি করতে আপনার হয়তো মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু এর পেছনে কোথাও না কোথাও শক্তিশালী সার্ভার কাজ করছে, বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এবং তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য পানি ব্যবহৃত হতে পারে। তাই এআইয়ের তৈরি ছবির সুবিধার পাশাপাশি এর অদৃশ্য পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - এর সব খবর



রে