×
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুরুষদের ৫ মিনিট জড়িয়ে ধরলেই ৯০০ টাকা! 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৫:৫০:০৮
পুরুষদের ৫ মিনিট জড়িয়ে ধরলেই ৯০০ টাকা! 

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানসিক চাপ, একাকিত্ব কিংবা সারাদিনের ক্লান্তি থেকে স্বস্তি পেতে মানুষ নানা উপায় খোঁজেন। তবে চীনে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে এক অভিনব প্রবণতা। সেখানে অর্থের বিনিময়ে কয়েক মিনিটের জন্য পেশিবহুল ও শান্ত স্বভাবের পুরুষের কাছ থেকে আলিঙ্গন নিচ্ছেন কিছু তরুণী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পুরুষদের অনেকেই ‘ম্যান মাম’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। শব্দটি দিয়ে এমন পুরুষদের বোঝানো হচ্ছে, যাদের শারীরিক গঠন শক্তপোক্ত হলেও আচরণ কোমল, ধৈর্যশীল ও সান্ত্বনা দেওয়ার মতো।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর দেওয়া একটি পোস্ট থেকেই এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ওই তরুণী পড়াশোনার চাপের মধ্যে মানসিক স্বস্তি পেতে একজন ভদ্র ও পেশিবহুল পুরুষের কাছ থেকে কয়েক মিনিটের আলিঙ্গন চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, এমন আলিঙ্গন তাকে নিরাপদ অনুভূতি দিতে পারে।

পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এতে বিপুলসংখ্যক মন্তব্য আসে এবং একই ধরনের সঙ্গী খোঁজার পোস্টও বাড়তে থাকে।

এই ব্যবস্থা কোনো আনুষ্ঠানিক পেশা বা স্বীকৃত সেবা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গনের জন্য ২০ থেকে ৫০ ইউয়ান পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা আনুমানিক কয়েকশ থেকে প্রায় ৯০০ টাকার কাছাকাছি হতে পারে।তবে ব্যক্তিভেদে বা পরিস্থিতি অনুযায়ী পারিশ্রমিকের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

শুধু শারীরিক গঠনই নয়, সম্ভাব্য সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আচরণ ও ব্যক্তিত্বকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।শারীরিক গঠন, ভদ্রতা, ধৈর্য, কথা বলার ধরন এবং অন্য ব্যক্তিকে স্বস্তি দেওয়ার সক্ষমতা—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রে মেট্রোস্টেশন, শপিং মল বা অন্যান্য জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় দেখা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এই ধরনের সাক্ষাতে শুধু শারীরিক সান্নিধ্যই নয়, অনেক নারী তাদের ব্যক্তিগত সমস্যার কথাও বলতে চান।

পড়াশোনার চাপ, কর্মক্ষেত্রের দুশ্চিন্তা, চেহারা নিয়ে অনিরাপত্তা কিংবা সম্পর্কের সমস্যা—এসব বিষয় নিয়েও তারা কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অর্থাৎ অনেকের কাছে বিষয়টি শুধু কয়েক মিনিটের আলিঙ্গন নয়; বরং কিছু সময়ের জন্য এমন একজন মানুষের সঙ্গে থাকা, যিনি মনোযোগ দিয়ে কথা শুনবেন এবং মানসিকভাবে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবেন।এই সেবার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পুরুষও জানিয়েছেন, অন্য কাউকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারা তাদের নিজেদের কাছেও ভালো অনুভূতি তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে আধুনিক শহুরে জীবনে একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি। ব্যস্ত কর্মজীবন, পড়াশোনার চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানোর কারণে অনেক মানুষ বাস্তব জীবনে ঘনিষ্ঠ মানবিক যোগাযোগের ঘাটতি অনুভব করতে পারেন।চীনের এই প্রবণতাকেও সেই বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কয়েক মিনিটের জন্য একজন অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে পাওয়া মনোযোগ, কথা বলার সুযোগ বা আলিঙ্গন কারও কাছে সাময়িক স্বস্তি তৈরি করতে পারে—এমন ধারণা থেকেই হয়তো এই ধরনের সেবার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।এই ধরনের আলিঙ্গনকে মানসিক রোগের চিকিৎসা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বীকৃত থেরাপি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

মানসিক চাপ, দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্ব বা বিষণ্নতার মতো সমস্যা থাকলে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়াই উপযুক্ত পথ।আলিঙ্গন বা সামাজিক যোগাযোগ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু গুরুতর মানসিক সমস্যার চিকিৎসার বিকল্প নয়।এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো নিরাপত্তা।

অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি দেখা করা এবং শারীরিক সংস্পর্শে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা, সম্মতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হয়রানি বা অন্য ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

এ কারণে প্রকাশ্য স্থানে দেখা করা, নিজের পরিচিত কাউকে বিষয়টি জানিয়ে রাখা এবং স্পষ্টভাবে ব্যক্তিগত সীমারেখা নির্ধারণের মতো সতর্কতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

চীনে আলোচিত এই ‘ম্যান মাম’ প্রবণতা আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্ন—মানুষ কি আধুনিক জীবনে আগের চেয়ে বেশি একাকী হয়ে পড়ছে?

মাত্র কয়েক মিনিটের আলিঙ্গনের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার ঘটনা হয়তো সাময়িক একটি সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড। কিন্তু এর জনপ্রিয়তা মানুষের আবেগগত সংযোগ, নিরাপত্তাবোধ ও ব্যক্তিগত সঙ্গের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

শেষ পর্যন্ত এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সামাজিক পরিবর্তনে রূপ নেবে, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরেকটি ক্ষণস্থায়ী ট্রেন্ড হিসেবেই হারিয়ে যাবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর



রে