×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের এক পদক্ষেপেই ভারতের কান্নাকাটি 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ০৮:৫৫:১৩
পাকিস্তানের এক পদক্ষেপেই ভারতের কান্নাকাটি 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দূরে ওয়াহ সেনানিবাসে অবস্থিত পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (POF) পরিদর্শন করেন তিনি।

সফরের সময় তিনি অস্ত্রের নকশা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং গোলাবারুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তিতে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনায় এসেছে। কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার হয়েছে।

বিশেষ করে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এসব চুক্তির ফলে পাকিস্তানের সামরিক কৌশল ও আঞ্চলিক অবস্থান নতুন মাত্রা পাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে চীন ও তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের চলাচল সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এসব বিমানের মাধ্যমে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কিংবা ড্রোন প্রযুক্তি পাকিস্তানে পৌঁছাতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এসব সরঞ্জামের সুনির্দিষ্ট ধরন ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত তথ্য সীমিত।

ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনা নির্মিত SH-15 ১৫৫ মিলিমিটার হাউইটজার কামান মোতায়েন করছে। এই কামান দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায় বলে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

এই ধরনের সামরিক মোতায়েন সীমান্তে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখার বিষয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

আসিম মুনিরের অস্ত্র কারখানা সফর এবং সীমান্তে সামরিক তৎপরতাকে ঘিরে দুই ধরনের ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। একদল বিশ্লেষকের মতে, ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সংঘাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় পাকিস্তান সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।

অন্যদিকে আরেকটি মত হলো, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতেও ভারতবিরোধী অবস্থান ও সামরিক উত্তেজনা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হতে পারে।

পাকিস্তানের তৎপরতার পাশাপাশি ভারতও নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। দেশীয়ভাবে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সন্দেহ আরও বেড়েছে বলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সীমান্তকেন্দ্রিক উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলছে। তবে সামরিক প্রস্তুতি বাড়লেও তা অবশ্যম্ভাবীভাবে নতুন যুদ্ধের সূচনা করবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো নেই। দুই দেশের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপই পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে