×
ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনপ্রতি ঋণ কত টাকার? সংসদে হিসাব দিল সরকার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১১:৪৬:৩০
জনপ্রতি ঋণ কত টাকার? সংসদে হিসাব দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সা। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু এই ঋণ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ তার প্রশ্নে দেশের জনগণের বর্তমান মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ এবং এই ঋণের বোঝা কমাতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চান।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

দেশের ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

আমির খসরু বলেন, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বা এনটিআর বাড়িয়ে সরকারের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের নিজস্ব আয় বাড়লে উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ের জন্য ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় এবং অগ্রাধিকারবহির্ভূত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা কমানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি ঋণের সুদ ব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক এবং সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।

এ লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণের ব্যয় ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।

সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান আমির খসরু। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে উচ্চ ব্যয়ের ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও গড়ে তোলা যাবে।

অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ এড়াতে ‘অ্যানুয়াল বোরোয়িং প্ল্যান’ প্রণয়ন ও তা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া সরকারের নগদ অর্থের প্রয়োজন, রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের কখন কত অর্থের প্রয়োজন হবে এবং সেই অর্থের কতটা ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে, তা আরও পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’-এর বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও সংসদকে জানান আমির খসরু।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ঋণ গ্রহণে পরিকল্পনা, সুদ ব্যয় কমানো এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

তবে মাথাপিছু ঋণের এই হিসাবটি ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি ঋণের হিসাবের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। এটি প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত ঋণ নয়; বরং দেশের মোট সরকারি ঋণকে জনসংখ্যার ভিত্তিতে মাথাপিছু হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে