×
ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদে রুমিন ফারহানাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা জবাব

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ০৯:৪৬:৪৫
সংসদে রুমিন ফারহানাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা জবাব

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার সময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রুমিনের ‘পত্রিকা পড়ার সময় পান কিনা, কে জানে’ মন্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি রুমিন ফারহানার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পোস্টও দেখেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ পাসের আগে আলোচনায় অংশ নেন রুমিন ফারহানা। এ সময় তিনি বলেন, গত সাত মাসে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে এখনও ২ হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে রুমিন বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে উপস্থিত আছেন। সে কারণেই তাকে বিষয়টি আবারও একটু মনে করিয়ে দিলাম।’

গুমকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গোপন বন্দিশালা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগকে নীতিগতভাবে সমর্থন করেন জানিয়ে রুমিন বলেন, আইনটি তাড়াহুড়ো করে পাস না করে আরও নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা গুমের শিকার হয়েছেন এবং এখনও যাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি, তাদের ক্ষেত্রে আইনের তামাদি ও ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা জটিলতা তৈরি করতে পারে। অতীতে সংঘটিত প্রতিটি গুমের বিচারের পথ নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন। তার মতে, রাষ্ট্রের প্রশিক্ষিত কোনো বাহিনী কাউকে তুলে নিয়ে গেলে অসহায় পরিবারের পক্ষে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা কঠিন। কোনো নাগরিককে সর্বশেষ কোনো বাহিনীর হেফাজতে দেখা গেলে তিনি ওই বাহিনীর হেফাজতে নেই—এটি প্রমাণের প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ওপর থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক বিচারব্যবস্থার দ্বন্দ্ব এড়াতে বিলে স্পষ্ট বিধান না থাকার কথা বলেন রুমিন। গোপন আটক বন্ধে কাউকে আটকের দুই ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে তথ্য অন্তর্ভুক্তির বাধ্যবাধকতা এবং অনুপস্থিতির সনদ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখারও দাবি জানান তিনি।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় সদস্য রুমিন ফারহানাকে, কারণ তিনি বলেছেন আমার পত্রিকা পড়ার সময় নাই। তার ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে যে স্ট্যাটাস দিয়েছে, আমার নামের বিকৃতি করে, তাও আমি দেখেছি।’

বিলটিতে ‘নন-অবস্ট্যান্টিভ ক্লজ’ না থাকার বিষয়ে রুমিনের বক্তব্যেরও জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিলের তৃতীয় ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।’

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো জানি তিনি ব্যারিস্টার। নন-অবস্ট্যান্টিভ ক্লজ ইহাকেই বলে। একটু তিন নম্বর সেকশনটা পড়ে দেখতে বলবো।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আগের ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ গুমের শিকার ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীকে প্রথমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করার বিধান ছিল। পরে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি বা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে কমিশনের কাছে পাঠানো এবং কমিশনের তদন্তের বিধান রাখা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, ওই প্রক্রিয়ায় গুমের শিকার ব্যক্তিকে একাধিক ধাপ পেরিয়ে ট্রাইব্যুনালে যেতে হতো। এ কারণে আগের অধ্যাদেশের ত্রুটি দূর করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন বিলটি আনা হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে