ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

টানা দুই জয়ে সফর রাঙিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ

২০২৬ জুলাই ১৯ ২১:৩৫:৩৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ম্যাচের ভাগ্য মূলত গড়ে দেন বোলাররাই। টসের আগে উইকেট পর্যবেক্ষণ করে ধারাভাষ্যকার টিনো মাওয়োয়ো ও আতহার আলী মন্তব্য করেছিলেন, শুরুতে ব্যাট করা দল এই উইকেটে ২০০ রান পর্যন্ত তুলতে পারে এবং একবার থিতু হয়ে গেলে ব্যাটারদের জন্য রান তোলা সহজ হয়ে যাবে। তবে বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা—তাসকিন আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসানের সংযত বোলিংয়ের সামনে দেড় শ রানও পেরোতে পারেনি জিম্বাবুয়ে, তাদের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৪৩ রানে।

এত ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সহজ জয়ের প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভার পর্যন্ত, শেষমেশ ৪ উইকেট ও ২ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। জয়ের স্বস্তির পাশাপাশি বড় প্রাপ্তি হলো সিরিজ—২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়ের দল। সফরের শুরুটা মলিন হলেও শেষটা রাঙিয়েই এবার দেশে ফিরছেন ক্রিকেটাররা।

পুরো সফরজুড়েই ব্যাটে ধারাবাহিকতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। একমাত্র টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজও হাতছাড়া হয় এই কারণে, আর টি-টোয়েন্টি সিরিজেরও শুরু হয়েছিল হার দিয়ে। তবে এরপর টানা দুই জয়ে ছন্দে ফেরে বাংলাদেশ। বুলাওয়েতে আজকের রান তাড়ায় শুরুটা ছিল হতাশাজনক—ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাত্র ৪ রানে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান।

এরপর পারভেজ হোসেন ইমনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান তামিম, যদিও চাপের কারণে রানের গতি ছিল মন্থর। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে উইকেট না হারালেও মাত্র ৩০ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ধীরে ধীরে রানের চাকা সচল হয়।

তবে বেশিক্ষণ টেকেননি ইমন, ২৪ রানে আউট হয়ে ভাঙেন দ্বিতীয় উইকেটে গড়া ৫৫ রানের জুটি। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয়কে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা চালান তামিম, তবে হৃদয়ও ২৪ রানে থেমে গেলে ভাঙে ৬৩ রানের আরেকটি জুটি। এর মধ্যেই অবশ্য সফরের চতুর্থ ফিফটি পূর্ণ করেন তামিম। এরপর ১০ রান করে ফেরেন ইয়াসির আলী রাব্বিও।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫ রান—প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন তামিম, এরপর পরপর দুই বলে ফেরেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, যা ম্যাচে নাটকীয় মোড় নিয়ে আসে। তবে চাপের মুখে ভুল করেননি মেহেদী, বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। অপরাজিত থাকেন তামিম, ৫৮ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে।

এর আগে ব্যাট হাতে স্বাগতিকদের জন্য পথটা কঠিন করে তোলেন সফরকারী বোলাররা। ডিওন মেয়ার্সের ফিফটি সত্ত্বেও তাসকিন ও মেহেদীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ৭ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪৩ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের—ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে (৪) ফেরান মেহেদী।

এর আগে প্রথম ওভারেই অবশ্য বেঁচে যান বেনেট, শূন্য রানে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়েও রক্ষা পান তিনি। জীবন পেয়ে মায়ার্সের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৭১ রানের জুটি গড়েন এই ওপেনার, নিজে করেন ৪৭ রান। শেষ পর্যন্ত তাকে থামান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

নাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর



রে