ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনা, মামলা ও দেশে ফেরা নিয়ে খোলামেলা সাকিব

২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৯:৩০:৪৬
শেখ হাসিনা, মামলা ও দেশে ফেরা নিয়ে খোলামেলা সাকিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তিনি দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে দেশে বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সাকিব।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাকিব দেশে ফেরেননি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলছেন।

দেশে ফেরার প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, সরকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আদালতে হাজির হয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। তার দাবি, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং আদালতেই নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চান।

সাকিব আরও জানান, দেশে ফিরতে পারলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। তার বিশ্বাস, আলোচনার মাধ্যমে দেশে ফেরার পথ সুগম হতে পারে।

রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। দেশে ফেরার শর্ত হিসেবে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পরামর্শও তিনি গ্রহণ করেননি বলে জানান।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে একবার নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন সাকিব। তবে যাত্রাপথে পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় তাকে ফিরে যেতে বলা হয় এবং পরে তিনি দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।

সাকিব দাবি করেন, পরে তাকে জানানো হয় যে, শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি দেশে ফেরার ক্ষেত্রে একটি বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একটি শুভেচ্ছাবার্তা কীভাবে দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে, তা তার বোধগম্য নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে সাকিবের বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এক বিক্ষোভকারীর নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা এবং অন্যটি দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দুর্নীতির মামলা।

হত্যা মামলার বিষয়ে সাকিবের দাবি, যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন। তিনি মামলাটিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, এখনো এ মামলায় কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেননি।

এ ছাড়া তদন্তের কারণে তার ব্যাংক হিসাব প্রায় দেড় বছর ধরে জব্দ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কোনো ব্যাংকে কত অর্থ রয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে দেশের সর্বোচ্চ করদাতা ক্রিকেটারদের একজন তিনি। তদন্তে কোনো অনিয়ম না পাওয়া গেলে তার ব্যাংক হিসাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

পারিবারিক বিষয়েও কথা বলেন সাকিব। তিনি জানান, গত দুই বছরে বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এই পরিস্থিতি পরিবারের জন্য কঠিন হলেও তারা ধৈর্যের সঙ্গে তা মোকাবিলা করছেন।

সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সাকিব। তার ভাষ্য, সেখানে তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির আহ্বান জানানো এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।

ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বলেন, তিনি এখনো বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন এবং ক্রিকেট উপভোগ করছেন। তবে বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে খুব বেশি দেরি না করে অবসরের পরিকল্পনাও রয়েছে। তার আশা, দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলতে পারবেন এবং সম্ভব হলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর



রে