ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ, বড় মাইলফলকের অপেক্ষায়

২০২৬ আগস্ট ১২ ১৫:৩৫:৩০
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ, বড় মাইলফলকের অপেক্ষায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক: দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর দেশটির মাটিতে আর কোনো টেস্ট খেলা হয়নি টাইগারদের। দীর্ঘ বিরতির পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের এই প্রত্যাবর্তনে দুই দলের একাধিক ক্রিকেটারের সামনে রয়েছে ব্যক্তিগত রেকর্ড ও মাইলফলক স্পর্শের সুযোগ।

৭ হাজার রানের সামনে মুশফিক

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের সামনে অপেক্ষা করছে ঐতিহাসিক এক অর্জন। প্রায় ২১ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০৩ ম্যাচের ১৯০ ইনিংসে তার সংগ্রহ ৬ হাজার ৮০৬ রান। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ২৯টি হাফসেঞ্চুরি।

আর ১৯৪ রান করতে পারলেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ৭ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন মুশফিক। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজেই সেই রান পূর্ণ করতে পারলে ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটেও নতুন ইতিহাস গড়বেন তিনি।

তবে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে স্বাগতিকদের শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে এই মাইলফলকে পৌঁছানো সহজ হবে না। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই হবে মুশফিকের বড় ভরসা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় স্মিথ

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের সামনেও রয়েছে ব্যক্তিগত মাইলফলক। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষেই এখনো টেস্ট সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টে ২৯.৭৫ গড়ে মাত্র ১১৯ রান করেছিলেন স্মিথ। নিজের মানের তুলনায় যা ছিল বেশ হতাশাজনক পারফরম্যান্স।

এবার ঘরের মাঠে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ রয়েছে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের সামনে। তাই বাংলাদেশের বোলারদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য থাকবে স্মিথকে দ্রুত সাজঘরে ফেরানো।

৩০০ উইকেটের দুয়ারে হ্যাজেলউড

অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্র জশ হ্যাজেলউডও দাঁড়িয়ে আছেন গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলকের সামনে। টেস্টে এখন পর্যন্ত তার শিকার ২৯৫ উইকেট।

দুই ম্যাচের সিরিজে আর মাত্র পাঁচ উইকেট নিতে পারলেই ৩০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করবেন হ্যাজেলউড। এই কীর্তি গড়লে টেস্ট ইতিহাসে ৩০০ উইকেট নেওয়া ৪২তম এবং অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হবেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নতুন বলে তার নিখুঁত লাইন-লেন্থ বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

স্টার্কের সামনে কপিল-স্টেইনের রেকর্ড

রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্কও। ১০৫ টেস্টের ২০২ ইনিংসে তার সংগ্রহ ৪৩১ উইকেট।

আর নয়টি উইকেট পেলেই ভারতের কিংবদন্তি কপিল দেবের ৪৩৪ উইকেট ছাড়িয়ে যাবেন স্টার্ক। আর ১০ উইকেট নিতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার ডেল স্টেইনের ৪৩৯ উইকেটও টপকে যাবেন তিনি।

ফলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে স্টার্ককে সামলানো হবে সিরিজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

ওপেনিংয়ে আরও ভয়ংকর ট্রাভিস হেড

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি হতে পারেন ট্রাভিস হেড। ওপেনিংয়ে উঠে আসার পর তার আগ্রাসী ব্যাটিং প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

২০২৫ সাল থেকে ওপেনার হিসেবে ব্যাটিং করা হেডের স্ট্রাইক রেট ৯১.৭। একাধিক ইনিংসে ওপেন করা ব্যাটারদের মধ্যে এই হারই সর্বোচ্চ।

বাউন্ডারি হাঁকানোর ক্ষেত্রেও তার আগ্রাসন স্পষ্ট। ওপেনার হিসেবে প্রতি ১০০ বলে গড়ে ১২.৭টি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি।

তাই নতুন বলে বাংলাদেশের বোলারদের বড় দায়িত্ব হবে শুরুতেই হেডকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। দ্রুত রান তোলার সুযোগ পেলে এই বাঁহাতি ব্যাটার অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে পারেন।

পেস আক্রমণেই বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা

দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিংয়ের সামনে। গত দুই বছরে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা প্রতি উইকেটে গড়ে মাত্র ২০.৭৫ রান দিয়েছেন। তাদের চেয়ে কম বোলিং গড় রয়েছে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের—২০.১৬।

ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের কার্যকারিতা আরও বেশি। এই ধরনের ব্যাটারদের বিপক্ষে তাদের বোলিং গড় ১৯.৫৫। বাঁহাতিদের বিপক্ষে সেটি ২৪.০৮।

বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে ডানহাতি ব্যাটারের সংখ্যাই বেশি। ফলে সিরিজ শুরুর আগেই এই পরিসংখ্যান টাইগার ব্যাটারদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে আছে।

ব্যক্তিগত রেকর্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ

মাইলফলকের হিসাবের বাইরে বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজের গুরুত্বও অনেক বেশি। ২০০৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে টাইগাররা।

মুশফিকের ৭ হাজার রান, স্মিথের বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি, হ্যাজেলউডের ৩০০ উইকেট এবং স্টার্কের কপিল দেব ও ডেল স্টেইনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে সিরিজজুড়ে রয়েছে একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ডের হাতছানি।

তবে বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা হবে অস্ট্রেলিয়ার ভয়ংকর পেস আক্রমণ ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে তারা কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি সিরিজ নয়, নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় মঞ্চ।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর



রে