ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সারা বছর বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকে যে মাছ

২০২৬ জুন ১৬ ১৩:২৬:২৩
সারা বছর বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকে যে মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ষার প্রথম ভারী বৃষ্টি নামলেই গ্রামবাংলার খাল-বিল, ডোবা আর ধানখেতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। আর এই সময়টির জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে এক বিশেষ মাছ—মাগুর। সাধারণ দেখতে এই মাছের জীবনযাপন এবং বেঁচে থাকার কৌশল এতটাই ব্যতিক্রমী যে বিজ্ঞানীরাও একে প্রকৃতির বিস্ময় বলে মনে করেন।

মাগুর মাছের দেহ আঁশবিহীন, কালচে-বাদামি রঙের এবং মুখের চারপাশে থাকে গোঁফের মতো শুঁড়। তবে এর সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো, প্রয়োজন হলে এটি পানির বাইরে ডাঙায়ও চলাচল করতে পারে।

সাধারণ বৃষ্টিতে মাগুর মাছ খুব বেশি সক্রিয় হয় না। কিন্তু টানা ভারী বর্ষণে যখন খাল-বিল উপচে পানি মাঠ ও ধানখেতে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তৈরি হয় তাদের জন্য নতুন পথ। মাটির ওপর পাতলা পানির স্তর তৈরি হলেই মাগুর মাছ আশ্রয় ছেড়ে নতুন জলাশয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।

এই কারণেই বিজ্ঞানীরা মাগুরকে “ওয়াকিং ক্যাটফিশ” বা হাঁটা মাছ বলে থাকেন। বুকের পাখনা এবং শক্ত শরীরের সাহায্যে এরা সাপের মতো দেহ টেনে ডাঙার ওপর দিয়ে চলতে পারে। কখনো কখনো একশ মিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার নজির রয়েছে।

অধিকাংশ মাছের মতো শুধুমাত্র ফুলকার ওপর নির্ভরশীল নয় মাগুর। এর শরীরে বিশেষ ধরনের শ্বাসযন্ত্র রয়েছে, যা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে সাহায্য করে। ফলে শরীর ভেজা থাকলে দীর্ঘ সময় পানির বাইরে টিকে থাকতে পারে।

বিশেষ করে রাতের বেলা বা বৃষ্টির পর আর্দ্র পরিবেশে এদের চলাচল বেশি দেখা যায়। তখন শিকারি প্রাণীর ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে।

জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাগুর মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময় অগভীর ও আগাছায় ভরা পানিতে ডিম পাড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে তারা। ধানখেতের পানিতে থাকা শিকড়, পচা পাতা ও জলজ উদ্ভিদ ডিমকে নিরাপদ আশ্রয় দেয়।

মজার বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ মাগুর মাছ ডিম ফোটার আগ পর্যন্ত পাহারার দায়িত্বও পালন করে।

গ্রামাঞ্চলের অনেক কৃষক মাগুর মাছকে উপকারী প্রাণী হিসেবে মনে করেন। কারণ এটি ধানখেতের ক্ষতিকর পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ ও কেঁচো খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যদিও বড় আকারের মাগুর ছোট মাছ শিকার করতে পারে, তবুও কৃষিজমির বাস্তুতন্ত্রে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

মাগুর মাছের জন্য বর্ষা শুধু ঋতু নয়, এটি নতুন জীবনচক্রের সূচনা। বৃষ্টি এলেই শুরু হয় খাদ্য সংগ্রহ, নতুন আবাস খোঁজা এবং প্রজননের ব্যস্ততা। তাই প্রকৃতির নিয়মে সারা বছরের অপেক্ষা যেন একটি বর্ষার রাতেই পূর্ণতা পায়।

এই কারণেই মাগুর মাছের জীবন ও বর্ষা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে—যেখানে পানি মানেই বেঁচে থাকা, আর বৃষ্টি মানেই নতুন যাত্রা।

কুলসুম/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর



রে