ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে সাত দফা দাবি গ্রাহক ফোরামের

২০২৬ জুন ১৫ ১৫:১১:৫০
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে সাত দফা দাবি গ্রাহক ফোরামের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে সৎ, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একই সঙ্গে ব্যাংক খাত থেকে অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রাহকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল এবং ব্যাংকের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হলেও তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পুনরায় এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অধ্যাপক নুরনবী মানিক জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্রাহকেরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আস্থা পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় প্রভাব বিস্তার করে। পরবর্তীকালে ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়া হয়। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, জোরপূর্বক দখল করা শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, অভিযুক্ত লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করা এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে দেওয়া ‘অসত্য বক্তব্য’ প্রত্যাহার করা।

অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, “ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়। এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, আস্থা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যাংকের সুশাসন, স্থিতিশীলতা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।”

তিনি আরও জানান, উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। পাশাপাশি দাবিগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে