ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্যের আসল কারণ

২০২৬ মে ১৫ ১৫:২২:০২
নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্যের আসল কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বজুড়ে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় বেশি আয়ু পান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে গড় আয়ু ছিল প্রায় ৭২ বছর। এর মধ্যে নারীদের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর ২ মাস, আর পুরুষদের গড় আয়ু প্রায় ৬৯ বছর ৮ মাস।

অর্থাৎ গড়ে নারীরা পুরুষদের চেয়ে কয়েক বছর বেশি বাঁচেন। শতবর্ষী মানুষের মধ্যেও নারীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, জিনগত গঠন এই পার্থক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। নারীদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে, আর পুরুষদের থাকে একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম। ফলে নারীদের ক্ষেত্রে কোনো একটি জিনে সমস্যা হলে অন্যটি অনেক সময় সেটি সামলে নিতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ‘ব্যাকআপ’ সুবিধা থাকে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ ভ্রূণের মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। জন্মের সময়ও ছেলে শিশুদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে—বড় আকার, জটিল প্রসব এবং অন্যান্য জৈবিক কারণে।

পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন বেশি থাকে, যা শক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে তারা তুলনামূলকভাবে দুর্ঘটনা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বেশি আক্রান্ত হন।

অন্যদিকে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হৃদযন্ত্র সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।

ধূমপান, মদ্যপান, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এসব কারণে অনেক দেশে পুরুষদের গড় আয়ু কমে যায়।

গবেষণা বলছে, নারীরা বেশি দিন বাঁচলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘ সময় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন বেশি হয়। অর্থাৎ বেশি আয়ু মানেই সব সময় বেশি সুস্বাস্থ্য নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত চিকিৎসা, হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমে আসছে।

নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের এই পার্থক্য শুধু পরিসংখ্যান নয়—এর পেছনে রয়েছে জিন, হরমোন, জীবনযাপন ও সামাজিক আচরণের জটিল সমন্বয়।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর



রে