ঢাকা, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

এক রাতে একই এলাকায় ৩ বার ভূমিকম্প

২০২৬ জুন ০৮ ১১:১৯:২৯
এক রাতে একই এলাকায় ৩ বার ভূমিকম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুটানে পরপর তিনটি ভূমিকম্পের ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাতে প্রথম ও সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটির প্রভাব দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ভুটানের রাজধানী থিম্পু-র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২৪ কিলোমিটার গভীরে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এর মাত্রা ৫ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছে।

প্রথম ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকাতেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিকাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির প্রভাব বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

এনসিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পের ১১ মিনিট পর রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে একই এলাকায় ২ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এরপর রাত ১২টা ২২ মিনিটে ২ দশমিক ৪ মাত্রার আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একই এলাকায় যে ছোট মাত্রার ভূমিকম্পগুলো ঘটে, সেগুলো সাধারণত আফটারশক (পরাঘাত) হিসেবে পরিচিত।

ভূমিকম্পের সময় ভূগর্ভস্থ ফল্ট লাইনে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে যায়। বড় ভূমিকম্পের পর আশপাশের শিলাস্তর ও ফল্ট লাইনে নতুন চাপ তৈরি হয়। এই চাপ সামঞ্জস্য অবস্থায় ফিরতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন বা কখনো কয়েক মাস পর্যন্ত ছোট ছোট কম্পন সৃষ্টি করতে পারে। এসব কম্পনই আফটারশক নামে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুটানে রাতের প্রথম ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ২.৮ ও ২.৪ মাত্রার যে দুটি কম্পন হয়েছে, সেগুলো সম্ভবত ওই মূল ভূমিকম্পের আফটারশক।

কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

আনন্দ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে