ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ইউনিট ফান্ড নিবন্ধনে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা আইসিবির

২০২৬ মে ১৪ ২৩:০২:৩১
ইউনিট ফান্ড নিবন্ধনে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা আইসিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের সবচেয়ে পুরোনো ইউনিট ফান্ডকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) তাদের ঐতিহ্যবাহী ইউনিট ফান্ডকে নতুন বিধিমালার আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে।

আইসিবির পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৮১ সালে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনে গঠিত দেশের প্রথম ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড ‘আইসিবি ইউনিট ফান্ড’ বর্তমানে বিশেষ জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি আইসিবি অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর আওতায় প্রণীত ‘আইসিবি ইউনিট ফান্ড রেগুলেশনস, ১৯৮১’ অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ায় এতদিন বিএসইসির নিবন্ধন নেয়নি।

তবে সম্প্রতি প্রণীত ‘মিউচুয়াল ফান্ড রুলস ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, কমিশনের নিবন্ধন ও অনুমোদিত অ্যাসেট ম্যানেজার ছাড়া কোনো ফান্ড পরিচালনা করা যাবে না। এই বিধির আওতায় আইসিবির ইউনিট ফান্ডকে নিবন্ধনের উদ্যোগ নিতে গত মার্চে ৪৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয় বিএসইসি। পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় আরও সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

গত ৫ মে কমিশনের পাঠানো এক চিঠিতে সতর্ক করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে ১২ মে। এর আগেই ১১ মে আইসিবি কমিশনকে জানায়, বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইসিবি তাদের চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, নতুন নিয়মে নিবন্ধন নিতে হলে ফান্ড পরিচালনা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। বর্তমানে অনিবন্ধিত এই ফান্ড পরিচালনায় বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৪১ কোটি ২৪ লাখ টাকা হলেও নতুন আইনের আওতায় এ ব্যয় বেড়ে প্রায় ৭৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। ফলে ইউনিটধারীদের লভ্যাংশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এছাড়া ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কারণে ইউনিট সমর্পণ বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে আইসিবি। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফান্ডটির অধিকাংশ বিনিয়োগকারী স্থায়ী আয়ের প্রত্যাশী প্রবীণ ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারী। হঠাৎ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন তাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আইসিবির তথ্যমতে, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ফান্ডটির বিনিয়োগকৃত শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বড় পরিমাণ ইউনিট সমর্পণের চাপ তৈরি হলে ইউনিটধারীদের অর্থ পরিশোধে বাজারে থাকা শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে, যা সামগ্রিক শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

১৯৮১ সালে মাত্র ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা আইসিবি ইউনিট ফান্ড বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৯০৯ কোটি টাকার বিশাল তহবিলে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ফান্ডটি মোট ৬ হাজার ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ডিভিডেন্ড বিতরণ করেছে। একসময় ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা ডিভিডেন্ড দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতিতেও ৩০ টাকা করে ডিভিডেন্ড বিতরণ করেছে ফান্ডটি। বর্তমানে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি ইউনিটের সমর্পণ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৬৪ টাকা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে