ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই নিষিদ্ধ, বিজেপির নতুন নির্দেশনা

২০২৬ মে ১৪ ১৫:২৩:৪৩
পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই নিষিদ্ধ, বিজেপির নতুন নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই নিয়ে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। রাজ্যটিতে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সরকারি ছাড়পত্র ছাড়া গরু, ষাঁড়, মহিষসহ কোনো পশু জবাই করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। নতুন এই বিধিনিষেধ ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারি পশুচিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ, মহিষের বাছুর এবং খোজা মহিষ—সব ধরনের পশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

নতুন নির্দেশনায় পশু জবাইয়ের জন্য কঠোর কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পশুর বয়সসীমা, নির্ধারিত স্থানে জবাই এবং নিয়ম ভাঙলে শাস্তির বিধানও রয়েছে। কোনো পশু জবাইয়ের আগে অবশ্যই একটি সনদ নিতে হবে। ওই সনদে উল্লেখ থাকবে যে পশুটি জবাইয়ের উপযুক্ত।

সনদে নিশ্চিত করতে হবে, পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং সেটি আর কাজ বা প্রজননের জন্য উপযোগী নয়। অথবা বয়স, আঘাত, বিকলাঙ্গতা কিংবা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এই সনদ পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশুচিকিৎসক যৌথভাবে প্রদান করবেন।

সনদ দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জবাইয়ের অনুমতি পাওয়া পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানে জবাই করা যাবে। কোনো খোলা বা জনসমাগমস্থলে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা পশুচিকিৎসকের অনুমোদিত কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারবেন। এ কাজে কাউকে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন এই নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া সব অপরাধকেই আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর এই নতুন নিয়ম জারি করা হলো। ওই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেন।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে