ঢাকা, শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ভর্তি ফি নিয়ে যে প্রশ্নের জবাব স্কুলগুলো দিচ্ছে না

২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১১:৫৭:২২
ভর্তি ফি নিয়ে যে প্রশ্নের জবাব স্কুলগুলো দিচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক : একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বছর নতুন করে ভর্তি ফি নেওয়ার প্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একই শিক্ষার্থী যখন একই স্কুলে এক শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে যায়, তখন তাকে নতুন করে ভর্তি করানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই নামে প্রতিবছর অতিরিক্ত ফি আদায় শিক্ষাব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক রূপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এশা রহমান নামে একজন লেখেন,“একই ছাত্র যখন একই স্কুলে এক শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে যায়, তখন তাকে নতুন করে ভর্তি করানোর যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। শিক্ষার্থী তো বিদ্যালয় পরিবর্তন করছে না—শুধু তার শ্রেণি পরিবর্তন হচ্ছে।”

তিনি আরও লেখেন,“এই নামে প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি আদায় করার প্রথা শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্রমেই আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে। এতে অভিভাবকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে এই ব্যবস্থার অসামঞ্জস্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।”

এ বিষয়ে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়ে ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাকলায়েন রাসেল ফেসবুকে লেখেন,“আমার সামর্থ্য আছে—আমার তাই প্রতিবাদের দরকার নেই—বিষয়টা এমন না। প্রতিবাদ হোক আপামর জনসাধারণের কথা ভেবে।”

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় শিশু, মানবাধিকার ও জলবায়ুকর্মী ফাতিহা আয়াত বলেন, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হলে একবার ভর্তি ফি নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যখন একই স্কুলে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়, তখন আবার নতুন করে ভর্তি ফি নেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?

তিনি বলেন,“শিক্ষাব্যবস্থাকে যদি ব্যবসায় পরিণত করা হয়, তাহলে এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। সীমিত আয়ের মানুষ বারবার অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি দিতে পারবে না।”

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো লাভের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এ ধরনের ব্যবসায়িক চর্চা পরিহার করবে।“আমরা যদি বর্তমান প্রজন্মের কাছ থেকে লাভ খুঁজে নিই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে,” বলেন তিনি।

অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবু ইউসুফ নামের এক অভিভাবক বলেন,“ছেলেকে কিছুদিন আগে কলেজে ভর্তি করালাম। এখন দ্বিতীয় বর্ষে উঠবে। আবার নাকি নতুন করে ভর্তি হতে হবে এবং ফি দিতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, এটাই নাকি নিয়ম।”

অন্যদিকে কামরুর হাসান নামে এক অভিভাবক সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,“আওয়াজ তুলুন। একই স্কুলে প্রতি শ্রেণিতে প্রতি বছর পূর্ণ ভর্তি ফি নেওয়া এক ধরনের নীরব চাঁদাবাজি। শিক্ষা খাতে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করা হোক।”এই প্রতিবাদে শিক্ষা খাতে ভর্তি ফি নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে