ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

শেয়ার ধারণের সীমা নিয়ে এবিবি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লড়াই

২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৮:৫৯:৩৩
শেয়ার ধারণের সীমা নিয়ে এবিবি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতে একক ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য কমাতে শেয়ার ধারণের ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপের একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে নীতিনির্ধারক মহলে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগান্তকারী প্রস্তাবের বিপরীতে জোরালো আপত্তি জানিয়েছে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। মূলত ব্যাংক খাতের সুশাসন ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কড়াকড়ি আরোপ করতে চাইছে, তা নিয়ে অংশীজনদের মধ্যে এখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে।

সম্প্রতি 'ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫'-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই খসড়া প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের মতামত আহ্বান করেছিল। গত বুধবার সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এবিবির পক্ষ থেকে এই সংশোধনীর বিভিন্ন ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিমত পোষণ করা হয়।

প্রস্তাবিত এই খসড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করেছে, কোনো ব্যক্তি, পরিবারের সদস্য বা প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একাধিক ব্যাংকে একসাথে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ারের মালিক হতে পারবেন না। নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, যদি কেউ কোনো একটি ব্যাংকের ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারের মালিক হন, তবে তিনি অন্য কোনো ব্যাংকের ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার ধারণ করার যোগ্যতা হারাবেন। গত কয়েক অর্থবছরে ব্যাংক খাতে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন অনিয়ম ও লুটপাট বন্ধ করতেই এই কঠোর মালিকানা নীতি প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এবিবির প্রতিনিধিরা এই মালিকানা সীমার ঘোর বিরোধিতা করে যুক্তি দেখিয়েছেন, সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। তাঁদের মতে, ব্যাংকের যাবতীয় ক্ষমতা থাকে পরিচালনা পর্ষদের হাতে, যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা আইন রয়েছে। যেহেতু একই পরিবারের একাধিক সদস্যের পর্ষদে থাকার সুযোগ কমানোর প্রস্তাব আগেই এসেছে, তাই আলাদা করে শেয়ার মালিকানার ওপর এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করার প্রয়োজন নেই বলে তাঁরা মনে করেন।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী একসাথে একাধিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো খাতটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে এস আলম গ্রুপের কথা উল্লেখ করে তাঁরা জানান, একটি গোষ্ঠী একাধিক ব্যাংকের মেজোরিটি শেয়ার কবজায় নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর ফলে সাধারণ আমানতকারীরা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং শেয়ারবাজারে থাকা ব্যাংকগুলোর ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও তথ্য দেন যে, অনিয়মের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বছরের শেষ দিকে একীভূত হওয়া পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ক্যাশ সরবরাহ করতে হয়েছে। সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া এই ২০ হাজার কোটি টাকার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই চেপেছে। ভবিষ্যতে এই ধরণের লুটতরাজ ঠেকাতে এবং আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেয়ার ধারণের ওপর সীমা আরোপ করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে