ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

‘জনবল সংকটে আটকে আছে শেয়ারবাজারের সংস্কার’

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ২২:১০:২১
‘জনবল সংকটে আটকে আছে শেয়ারবাজারের সংস্কার’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারের সংস্কার ও উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিলেও তীব্র জনবল সংকটের কারণে তা সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে এক অনুষ্ঠানে এই সীমাবদ্ধতার কথা প্রকাশ করেন। রাজধানীর একটি ভেন্যুতে আয়োজিত ‘বিএসইসি ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিজম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসির পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে চেয়ারম্যান জানান, কমিশনের অনুমোদিত পদ সংখ্যা ৩৭০টি হলেও বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ২৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মী। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ১১০ জন জনবলের ঘাটতি রয়েছে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে লোকবল নিয়োগ বা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না থাকায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, “সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ আরও ব্যাখ্যা করেন যে, জনবল সংকটের কারণে কমিশনের অধীনে গঠিত বিভিন্ন কমিটির মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে। কর্মকর্তাদের তাদের নিজস্ব বিভাগের বাইরেও একাধিক তদন্ত কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তাকে একসঙ্গে ৪ থেকে ৭টি পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা কাজের চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, তদন্তের মান বা কার্যকারিতার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হচ্ছে না এবং কর্মকর্তাদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিএসইসির স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল ২১ জন কর্মকর্তাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোতে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। তা সত্ত্বেও কমিশন আগামী অর্থবছরগুলোতে বাজারকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে সংস্কার কাজগুলো আরও দ্রুততর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে শেয়ারবাজার সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন—এই তিন বিভাগে মোট ৯ জন সাংবাদিককে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিএসইসি চেয়ারম্যান বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা যেমন সচেতন হবেন, তেমনি বাজারে অনিয়মও কমে আসবে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে