ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

১৫ বছরে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মূলধন গায়েব ৫৯%

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ২২:২৩:৪১
১৫ বছরে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মূলধন গায়েব ৫৯%

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মর্গান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনালের (এমএসসিআই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের বাজারে প্রতি ১০০ ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের হাতে এখন মাত্র ৪১ ডলার অবশিষ্ট রয়েছে। অর্থাৎ মার্কিন ডলারের হিসেবে বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধনের প্রায় ৫৯ শতাংশই হারিয়েছেন। বিশ্ববাজার এবং ফ্রন্টিয়ার মার্কেটগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বাজারের এই নাজুক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ফাটল ধরিয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এমএসসিআই-এর দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, যেখানে বৈশ্বিক সূচক ৪২৮.৪৯ ডলার এবং ফ্রন্টিয়ার মার্কেটগুলো ২৩৫.৩৫ ডলারে অবস্থান করছে, সেখানে বাংলাদেশের সূচক পড়ে আছে মাত্র ৫০.৩৯ ডলারে। নিট রিটার্নের হিসেবে এই ব্যবধান আরও প্রকট। ২০০৯ সালের নভেম্বর থেকে এমএসসিআই বাংলাদেশ সূচক গড়ে মাইনাস ৩.৩৪ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক সূচক ১০ শতাংশের বেশি ইতিবাচক রিটার্ন বজায় রেখেছে। এই দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা বাংলাদেশের বাজারকে সমজাতীয় বাজারগুলোর তালিকায় সবার নিচে নামিয়ে দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারের দাম বৃদ্ধি না পাওয়া, তারল্য সংকট এবং টাকার বিপরীতে ডলারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি—এই তিনটি বিষয়ই বিনিয়োগকারীদের লোকসানকে বড় করেছে। বিশেষ করে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে স্থানীয় মুদ্রায় কোনো শেয়ারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তা বড় লোকসানে রূপ নিয়েছে। এ ছাড়া ফ্লোর প্রাইসের মতো নীতিগত হস্তক্ষেপ এবং ঘনঘন নিয়মনীতি পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এমএসসিআই এবং এফটিএসই রাসেলের মতো বৈশ্বিক সূচকগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান সংকুচিত হওয়া এর অন্যতম প্রমাণ।

বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। তবে বিদেশি লেনদেনের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাসিক বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ নেমে এসেছে মাত্র ৫ মিলিয়ন ডলারে, যা গত অক্টোবর বা নভেম্বরের তুলনায় অনেক কম। ডিসেম্বরে বিদেশিরা প্রায় ১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করলেও বিপরীতে মাত্র ২ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। স্কয়ার ফার্মা, গ্রামীণফোন এবং ব্র্যাক ব্যাংকের মতো বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো থেকেই মূলত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের ক্যাশ বা বিনিয়োগ গুটিয়ে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের শেয়ারবাজারের সূচক গণনার পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারগুলোর প্রকৃত চিত্র ডিএসইর সূচকে প্রতিফলিত হয় না। এমএসসিআই-এর মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলো ডিভিডেন্ড ইল্ড, লিভারেজ এবং শেয়ারের অস্থিরতাকে প্রাধান্য দিয়ে যে বিশ্লেষণ দেয়, স্থানীয় বাজারে তার প্রতিফলন কম। আসন্ন অর্থবছরগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ ফেরাতে হলে বাজারের কাঠামোগত সংস্কার এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে