ঢাকা, শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

যে ওষুধ খালেদা জিয়ার জন্য হয়ে ওঠে স্লো পয়জন নাম জানালেন চিকিৎসক

২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১১:৩৩:৫১
যে ওষুধ খালেদা জিয়ার জন্য হয়ে ওঠে স্লো পয়জন নাম জানালেন চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী দাবি করেছেন, মাত্রাতিরিক্ত মেথোট্রেক্সেট (এমটিএক্স) প্রয়োগের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, যা ধীরে ধীরে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জনিং’ করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্ন অনেকেই করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“মেথোট্রেক্সেট এমন একটি ওষুধ, যা তাঁর বিদ্যমান ফ্যাটি লিভার রোগকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং একপর্যায়ে তা লিভার সিরোসিসে রূপ নেয়। এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, এটি তাঁর লিভারের জন্য ছিল এক ধরনের স্লো পয়জন।”

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার লিভারের রোগ নির্ণয় করা খুবই সাধারণ একটি বিষয় ছিল এবং এর জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ারও প্রয়োজন ছিল না। অথচ লিভার ফাংশন টেস্টে গুরুতর সমস্যা ধরা পড়ার পরও সরকারনির্ধারিত চিকিৎসকেরা একটি আলট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং এমটিএক্স প্রয়োগ বন্ধ করা হয়নি।

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর অভিযোগ,“তৎকালীন সরকার আমলে নির্ধারিত চিকিৎসকেরা বিষয়টি জেনেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি, যা চরম অবহেলার শামিল।”

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আইনগত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি তিনটি বিষয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান। বিষয়গুলো হলো—

১. সরকার গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন এবং কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁরা চিকিৎসার দায়িত্ব পান; দায়িত্ব পালনে তাঁদের ব্যর্থতা ছিল কি না।

২. ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না।

৩. মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও কেন তা করা হয়নি এবং কারা এতে বাধা দিয়েছিলেন।

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী আশা প্রকাশ করেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন,“আজ দেশের লাখো মানুষের হৃদয়ে গভীর এক আফসোস—সারা জীবন গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করা মানুষটি যদি আর কিছুদিন বেঁচে থাকতেন! যদি তিনি দেখতে পেতেন, মানুষ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে