ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Sharenews24

জয় বাংলা ক্লাবের সভাপতি এখন বৈষম্যবিরোধীর যুগ্ম আহ্বায়ক

২০২৫ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৮:৪৭:২৮
জয় বাংলা ক্লাবের সভাপতি এখন বৈষম্যবিরোধীর যুগ্ম আহ্বায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাকিব মুসুল্লি, পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানার জয় বাংলা ক্লাবের সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের কলাপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, সম্প্রতি সাভার উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক সভায় সাভার উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এই পদায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রাকিব মুসুল্লি পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মহিবুর রহমান এবং তার স্ত্রী কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফাতেমা আক্তার রেখার ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি। তিনি জয় বাংলা ক্লাবের মহিপুর থানা শাখার সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের কলাপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাকিবের বাবা মো. মজিবর মুসুল্লি কুয়াকাটা পৌর কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাকিব মুসুল্লি ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলেন, যা মূলত চাঁদাবাজির জন্য ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে এই সংগঠনে অর্থ দিতে বাধ্য করতেন। এছাড়া, বিএনপি এবং জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তাদের হয়রানি করতেন।

২০২৫ সালের আগস্ট মাসে দেশে রাজনৈতিক পরিবতর্নের পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মতো রাকিব মুসুল্লি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন এবং ঢাকার সাভারে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সাথে যুক্ত হন এবং সাভার উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ লাভ করেন।

আলিপুরের ব্যবসায়ী মো. আল সাঈদ অভিযোগ করেন, রাকিব মুসুল্লি তাকে বিএনপি দলের সাথে সম্পর্ক থাকার কারণে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করেছেন। তিনি জানান, রাকিব নিয়মিতভাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিতেন এবং টাকা না দিলে ব্যবসায়িক ক্ষতি করার হুমকি দিতেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা রাকিব মুসুল্লির পদায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমন্বয়ক আবু সালেহ অমি বলেন, “যে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করেছে, তার মধ্যে একজন ফ্যাসিস্টের দোসর কীভাবে এমন পদ পেল?” তারা কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের কাছে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে রাকিব মুসুল্লিকে কমিটি থেকে বাদ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংগঠন তার পেছনে খোঁজ নিচ্ছে এবং যদি রাকিবের ফ্যাসিস্ট শক্তির সাথে সম্পর্ক প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাকিব মুসুল্লির মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও, তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার মাধ্যমে রাকিব মুসুল্লির অতীত কর্মকাণ্ড এবং তার নতুন রাজনৈতিক পদের মধ্যে বিভিন্ন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, এবং ছাত্র আন্দোলন তার ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করছে।

কেএইচ/

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে