ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

শেয়ারবাজারে বড় কোম্পানি আনতে নতুন নীতির কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

২০২৬ মে ২১ ১৮:০২:৩৩
শেয়ারবাজারে বড় কোম্পানি আনতে নতুন নীতির কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাশাপাশি উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণের বিকল্প হিসেবে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর Pan Pacific Sonargaon Dhaka হোটেলে প্রথম আলো আয়োজিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অলিগার্কি বা গোষ্ঠীনির্ভর অর্থনীতি এবং পৃষ্ঠপোষকতামূলক সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে একটি মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সরকার বিস্তৃত সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজেট ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে থাকা কামার, কুমোর, তাঁতিসহ গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল অর্থনৈতিক ধারায় যুক্ত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আগামী বাজেটে থিয়েটার, সংস্কৃতি, সংগীত, চিত্রকলা ও আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারির মতো ক্রিয়েটিভ ইকোনমি খাতের বিকাশে বিশেষ প্রকল্প ও তহবিল বরাদ্দ রাখা হবে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও সংগীতকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশের সফট পাওয়ার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো এবং বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত চার্জ ও প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাসে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে যেখানে ব্যবসা বা প্রকল্প বাস্তবায়নে অসংখ্য অনুমোদনের প্রয়োজন হতো, তা কমিয়ে ১৩টিতে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে নাগরিক সেবা সহজীকরণের পরিকল্পনা চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে প্রতিদিন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে।

শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণের বিকল্প হিসেবে ক্যাপিটাল মার্কেট ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার, ফান্ড ম্যানেজার ও International Finance Corporation (আইএফসি)-এর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি জানান, নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে ‘বাংলাদেশ বন্ড’ চালুর উদ্যোগ চলছে, যেখানে সুদের হার ৬ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।

কর ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বহুজাতিক কোমল পানীয় ও তামাক কোম্পানিগুলোর প্রকৃত বাজার হিস্যা যাচাই করে যথাযথ কর আদায় নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের জন্য সহজ ফ্ল্যাট রেট কর ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে কর কর্মকর্তাদের হয়রানি কমে।

করনীতি প্রণয়নে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে একটি নতুন বিল আনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে শুধু কর আদায়ে দক্ষ নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, স্থানীয় বাণিজ্য ও মানবিক লাভজনকতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নীতিনির্ধারণী সংস্থা গঠন করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হোসেন জিল্লুর রহমান, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সেলিম জাহান, সিমিন রহমান, মাহবুব উর রহমান, মাসরুর রিয়াজসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।

‌এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে