ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

রাসুল (সা.) যেভাবে কোরবানির মাংস বণ্টন করতেন

২০২৬ মে ২৫ ১২:০৪:০০
রাসুল (সা.) যেভাবে কোরবানির মাংস বণ্টন করতেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। এটি ইসলামের প্রতীকী বিধানগুলোর একটি এবং আদম (আ.) থেকে শুরু করে সব নবীর যুগেই কোরবানির প্রচলন ছিল।

হাদিসে কোরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তাও এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,“যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করবে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।”— (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২/৩২১)

কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের শিক্ষা পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,“আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।”— (সুরা কাওসার: ২)

আরেক আয়াতে এসেছে,“বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।”— (সুরা আনআম: ১৬২)

ইসলামে কোরবানির মাংস বণ্টনেরও একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোরবানির গোশত তিন ভাগ করতেন—এক ভাগ পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-প্রতিবেশীদের জন্য এবং এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য দান করতেন।

একইভাবে হজরত ইবনে মাসউদ (রা.)-এর আমল থেকেও জানা যায়, কোরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করা উত্তম—নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টনের জন্য।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোরবানির মাংস শুধু নিজের কাছে রেখে আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের বঞ্চিত করা অনুচিত। কারণ কোরবানির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,“আল্লাহর কাছে পৌঁছে না কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”— (সুরা হজ: ৩৭)

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে