×
ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বস্তির খবর, সঞ্চয়পত্রের টাকা ফেরতের সুযোগ

২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১৭:০০:১৬
অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বস্তির খবর, সঞ্চয়পত্রের টাকা ফেরতের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কর্তনের নিয়মে পরিবর্তনের ফলে নতুন আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত, প্রবীণ ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য। বিশেষ করে যাদের সংসার চলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর এবং অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস নেই, তারা আগে কেটে রাখা করের টাকা ফেরত পেতে পারেন। তবে এ জন্য নির্ধারিত নিয়মে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।

নতুন ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা করকে আর চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। এটি বিনিয়োগকারীর অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য হবে। বছর শেষে বেতন, বাড়িভাড়া, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা যোগ করে মোট বার্ষিক আয় নির্ধারণ করা হবে। এরপর প্রযোজ্য কর হিসাব করে আগে কেটে রাখা অর্থ সমন্বয় করা হবে। নির্ধারিত করের চেয়ে বেশি অর্থ জমা থাকলে অতিরিক্ত টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আর কেটে রাখা অর্থ প্রকৃত করের তুলনায় কম হলে বাকি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

আগে টিআইএনধারী সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়ার সময় ১০ শতাংশ এবং টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এই অর্থ অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীর প্রকৃত করের দায় নির্ধারণে পুরো বছরের আয় বিবেচনা করা হবে। ব্যক্তির আয় ও প্রযোজ্য করহার অনুযায়ী কর নির্ধারণের পর উৎসে কেটে রাখা অর্থ সমন্বয় করা হবে।

এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যেসব বিনিয়োগকারীর অন্য কোনো আয় নেই। বিশেষ করে অবসরের পর জীবনের সঞ্চয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে যারা নিয়মিত মুনাফা দিয়ে সংসার চালান, তাদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে এক লাখ টাকা মুনাফা পেলেন এবং সেখান থেকে ১০ শতাংশ হারে ১০ হাজার টাকা কর কেটে রাখা হলো। কিন্তু ওই ব্যক্তির অন্য কোনো আয় না থাকায় তাঁর মোট বার্ষিক আয় যদি করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে প্রকৃত আয়কর দাঁড়াতে পারে শূন্য টাকা। সে ক্ষেত্রে আগে কেটে রাখা ১০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি করতে পারবেন তিনি।

তবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার পাশাপাশি বেতন, বাড়িভাড়া কিংবা ব্যবসা থেকে আয় থাকলে করের হিসাব ভিন্ন হবে। কারণ, নতুন ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তির সব উৎসের আয় একত্র করে কর নির্ধারণ করা হবে। যেমন, কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে এক লাখ টাকা মুনাফা পেলেন এবং এ জন্য তাঁর ১০ হাজার টাকা উৎসে কর কাটা হলো। পাশাপাশি চাকরি বা অন্য কোনো উৎস থেকে তাঁর আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বার্ষিক আয় দাঁড়াবে সাড়ে চার লাখ টাকা। প্রতিবেদনে দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, প্রথম চার লাখ টাকা করমুক্ত সীমায় থাকলে বাকি ৫০ হাজার টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আগে কেটে রাখা ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা অতিরিক্ত জমা থাকবে, যা ফেরত চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, বেশি আয়ের বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে করের দায় বাড়তে পারে। কারণ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা অন্যান্য আয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় মোট বার্ষিক আয় বেশি হলে প্রযোজ্য করও বাড়বে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তি বছরে সঞ্চয়পত্র থেকে পাঁচ লাখ টাকা মুনাফা পেলেন এবং এর বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে ৫০ হাজার টাকা কর কাটা হলো। পাশাপাশি বেতন বা অন্য উৎস থেকে তাঁর আয় চার লাখ টাকা। এতে মোট বার্ষিক আয় দাঁড়াবে নয় লাখ টাকা। প্রতিবেদনের উদাহরণে প্রথম চার লাখ টাকা করমুক্ত ধরে পরবর্তী তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ এবং পরের দুই লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে মোট ৬০ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আগে কেটে রাখা ৫০ হাজার টাকার বাইরে তাঁকে আরও ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা অতিরিক্ত কর ফেরত পেতে শুধু কর কর্তনের বিষয়টি জানালেই হবে না; আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে যথাযথভাবে দাবি জানাতে হবে। এ জন্য বিনিয়োগকারীর টিআইএন থাকা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া এবং রিটার্নে সঞ্চয়পত্রের মুনাফাসহ অন্যান্য সব আয়ের তথ্য উল্লেখ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মুনাফার বিপরীতে কেটে রাখা করের প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। অতিরিক্ত কর ফেরতের আবেদন করতে ব্যাংক হিসাবের তথ্যও দিতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর বিভাগ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ১২০ দিনের মধ্যে প্রাপ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার কথা।

নতুন ব্যবস্থার ফলে সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্ষিক আয়ের হিসাব রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যাদের অন্য কোনো আয় নেই কিংবা মোট আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে, তাদের জন্য এটি আগে কেটে রাখা অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত বিনিয়োগকারীরা এতে উপকৃত হতে পারেন। তবে যাদের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর পরিশোধের প্রয়োজন হতে পারে। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নিজের মোট আয়, করমুক্ত সীমা এবং উৎসে কেটে রাখা করের পরিমাণ হিসাব করে নেওয়া জরুরি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে