×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিনের ভালোবাসার আবেগঘন গল্প

২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৯:০৭:৪১
উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিনের ভালোবাসার আবেগঘন গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিম্বাশয়ের (ওভারিয়ান) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিন। মরণব্যাধি ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন চুল পড়ে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক কিন্তু মানসিকভাবে ভীষণ বেদনাদায়ক একটি অভিজ্ঞতা। তবে এই কঠিন যাত্রায় সামিয়া যে মোটেও একা নন, তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ভালোবাসাময় এক উপায়ে স্মরণ করিয়ে দিল তাঁর পরিবার। তাঁর পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে প্রথমে তাঁর ছেলে এবং পরে তাঁর স্বামী দুজনই নিজেদের মাথা ন্যাড়া করেছেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শে কেমোথেরাপির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়ে যাওয়ার বিষয়টি সামিয়া আগে থেকেই মানসিকভাবে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে তিনি প্রথমে নিজের চুল ছোট করে কাটেন এবং পরে বড় ছেলে আহনাফ আরাবীর হাতে নিজের মাথা ন্যাড়া করিয়ে নেন। মায়ের এই কঠিন লড়াইয়ে সংহতি জানিয়ে ছেলে আহনাফ মুহূর্তের মধ্যেই নিজের মাথাও ন্যাড়া করে ফেলেন। স্ত্রীর কষ্টের সমভাগী হতে পিছপা হননি সামিয়ার স্বামী এস এম রেজাউল ইমরানও; তিনিও নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়ে স্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়ান।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সামিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই পরম ভালোবাসার একটি বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চুল পড়ে যাওয়া নিয়ে ভেঙে পড়ার বদলে চিকিৎসার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে বিষয়টিকে সহজভাবে গ্রহণ করাটাই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি। অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ না করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকেই তিনি সবসময় বেশি গুরুত্ব দেন।

বারবার শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হলেও পরিবারটির এই অটুট ভালোবাসা ও বন্ধন যেন এক নতুন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সামিয়া আফরিন প্রথম চতুর্থ ধাপের (স্টেজ-ফোর) কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসা শেষে সুস্থতার পথে থাকলেও পরবর্তীতে তাঁর ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরে অস্ত্রোপচার শেষ করার পর বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন।

মায়ের প্রথম ক্যান্সার শনাক্তের সময় বড় ছেলে আহনাফ কানাডায় পড়াশোনা করছিলেন। তবে খবর পাওয়ার পরপরই মায়ের কাছে থাকতে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং নিজের পড়াশোনাও বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করেন। আহনাফ জানান, নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে গেলেও মায়ের শারীরিক অসুস্থতার কথা প্রতি মুহূর্তেই তাঁর মনে দোলা দেয়।

ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় রোগী যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন, সেজন্য ধৈর্য ও পারিবারিক মানসিক সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন সামিয়া। তাঁর স্বামী ও সন্তানের এই বিশেষ উদ্যোগ স্পষ্ট করে দেয় যে, মরণব্যাধির বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির একার নয়—বরং তাঁকে ঘিরে থাকা মানুষদেরও ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য গল্প।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর

উ
প
রে