×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যে  কারণে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের মুনাফায় বড় ধাক্কা, নগদ প্রবাহে বড় পরিবর্তন

২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৮:২৬:০৪
যে  কারণে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের মুনাফায় বড় ধাক্কা, নগদ প্রবাহে বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফায় বড় ধরনের পতন হয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের। একই সঙ্গে বছরের প্রথম নয় মাসেও কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে মুনাফা কমলেও পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক অবস্থা কাটিয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। অন্যদিকে, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যেও (এনএভি) অবনতি হয়েছে। মূলত আগের বছরের এককালীন আয়, চলতি বছরে আর্থিক আয় হ্রাস এবং বিক্রয় কমে যাওয়ার কারণে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১২ টাকা ৮০ পয়সা।

সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ৪ টাকা ২৮ পয়সা। শতাংশের হিসাবে মুনাফা কমেছে প্রায় ৩৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।

নয় মাসে মুনাফা কমেছে ৪২ শতাংশের বেশি

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফলেও ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের মুনাফায় বড় ধরনের পতনের চিত্র উঠে এসেছে।

কোম্পানিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩২ টাকা ৫৯ পয়সা।

ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ১৩ টাকা ৭৪ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই পতন প্রায় ৪২ দশমিক ১৬ শতাংশ।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুনাফা কমার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আগের বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত একটি এককালীন আয়।

প্রকাশিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ট্রেডমার্ক ও প্রযুক্তি ব্যবহারের বিপরীতে প্রদেয় রয়্যালটিসংক্রান্ত দায় পুনর্মূল্যায়নের পর ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে এককালীন একটি লাভ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে আগের বছরের মুনাফা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।

চলতি বছরের প্রতিবেদনে ওই ধরনের এককালীন লাভের প্রভাব না থাকায় আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে।

এর পাশাপাশি কোম্পানিটির আর্থিক আয়ও কমেছে। একই সঙ্গে পণ্য বিক্রির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফা কমেছে। এসব কারণ সম্মিলিতভাবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক ও প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মুনাফা কমলেও নগদ প্রবাহে বড় পরিবর্তন

অন্যদিকে, মুনাফায় উল্লেখযোগ্য পতন হলেও ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৩৮ টাকা ১৭ পয়সা।

আগের বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ১৬ টাকা ৭০ পয়সা।

সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহে ৫৪ টাকা ৮৭ পয়সার ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

অর্থাৎ আগের বছরের ঋণাত্মক নগদ প্রবাহ কাটিয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির পরিচালন নগদ প্রবাহ ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিট মুনাফা কমলেও পরিচালন নগদ প্রবাহ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো পরিচালন কার্যক্রমে নগদ অর্থের বহির্গমন কমে যাওয়া।

বিশেষ করে আগের বছরের একই সময়ে ইউস্যান্স পে-অ্যাবল অ্যাট সাইট (ইউপিএএস) ঋণপত্রের অধিকাংশ দায় পরিশোধ করা হয়েছিল। এর ফলে ২০২৫ সালের তুলনীয় সময়ে পরিচালন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ ব্যয় হয়েছিল।

চলতি বছরের প্রতিবেদনের সময়ে ওই ধরনের নগদ অর্থের বহির্গমন তুলনামূলকভাবে কম থাকায় নিট মুনাফা হ্রাস পাওয়ার পরও পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে।

ডিভিডেন্ড বিতরণ ও আয় কমায় নিট সম্পদমূল্যে পতন

এদিকে, ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যেও উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।

কোম্পানিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৯৩ টাকা ১৫ পয়সা।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১১৬ টাকা ৩০ পয়সা।

অর্থাৎ নয় মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে ২৩ টাকা ১৫ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই পতন প্রায় ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমার পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ডিভিডেন্ড চলতি প্রতিবেদনের সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির সংরক্ষিত সম্পদের ওপর প্রভাব পড়েছে।

দ্বিতীয়ত, চলতি বছরে মুনাফা কম হওয়ায় সংরক্ষিত আয়ের সঞ্চয়ও তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ডিভিডেন্ড বিতরণ এবং মুনাফা সঞ্চয়ের পরিমাণ হ্রাস—এই দুই কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে।

আর্থিক প্রতিবেদনে মিশ্র চিত্র

সার্বিকভাবে, ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে মিশ্র পরিস্থিতি উঠে এসেছে।

একদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় ৩৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং প্রথম নয় মাসে প্রায় ৪২ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক অবস্থা কাটিয়ে ইতিবাচক হয়েছে।

তবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। আগের বছরের এককালীন লাভের প্রভাব, চলতি বছরে বিক্রয় ও আর্থিক আয় হ্রাস, লভ্যাংশ বিতরণ এবং তুলনামূলক কম মুনাফা সঞ্চয়ের বিষয়গুলো কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে