×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

নারী পাশে থাকলে পুরুষের ব্যথা কমে, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১০:৩১:৫৮
নারী পাশে থাকলে পুরুষের ব্যথা কমে, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যথা অনুভবের ক্ষেত্রে শুধু শারীরিক উদ্দীপনাই নয়, আশপাশে থাকা ব্যক্তির উপস্থিতিও প্রভাব ফেলতে পারে। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে পুরুষদের ব্যথা অনুভবের মাত্রায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। পরীক্ষাগারে পরিচালিত পরীক্ষা এবং অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের নিয়ে করা পর্যবেক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই এমন প্রবণতা পাওয়া গেছে।

তবে গবেষকেরা বলছেন, এই পার্থক্যের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তাই ফলাফলকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই যে সব পুরুষই নারী পাশে থাকলে কম ব্যথা অনুভব করেন।

গবেষণার প্রথম ধাপে সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীদের পায়ের পাতার ওপরের অংশে লেজারের সংক্ষিপ্ত স্পন্দন প্রয়োগ করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যথার সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুতন্তুর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা।

পরীক্ষায় দেখা যায়, নারী পরীক্ষক ব্যথার উদ্দীপনা প্রয়োগ করলে একই মাত্রার ব্যথা অনুভব করাতে তুলনামূলক বেশি তীব্র উদ্দীপনার প্রয়োজন হচ্ছিল। অর্থাৎ, নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে অংশগ্রহণকারীদের ব্যথার প্রতিক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে একটি ছোট যন্ত্র দেওয়া হয়। বোতাম চাপলে যন্ত্রটি মৃদু বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করত। ব্যথা অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বোতাম ছেড়ে দিতে বলা হয়।

পরীক্ষাটি দুইবার করা হয়—একবার নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে এবং অন্যবার পুরুষ পরীক্ষকের উপস্থিতিতে। এ পরীক্ষাতেও নারী ও পুরুষ উভয় অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে একই ধরনের ব্যথার প্রতিক্রিয়া পেতে তুলনামূলক বেশি তীব্র উদ্দীপনার প্রয়োজন হয়েছিল।

গবেষকেরা জানতে চেয়েছিলেন, পরীক্ষাগারে পাওয়া ফলাফল বাস্তব চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও দেখা যায় কি না। এ জন্য সুইডেনের স্কোনে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী তিনটি ওয়ার্ডের ২৪৫ জন রোগীর ওপর জরিপ চালানো হয়।

অস্ত্রোপচারের অল্প সময় পর একজন নারী ও একজন পুরুষ গবেষক রোগীদের ব্যথার বিষয়ে জানতে চান। ফলাফলে দেখা যায়, পুরুষ রোগীরা নারী গবেষকের কাছে ব্যথার কথা জানানোর সময় তুলনামূলক কম ব্যথার কথা বলেছেন। তবে নারী রোগীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে পার্থক্যটি খুব বেশি ছিল না। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ব্যথার কারণে যাঁদের ব্যথানাশক ওষুধের প্রয়োজন হচ্ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে ব্যথার অনুভূতি বা তা প্রকাশের ধরনে কেন পরিবর্তন দেখা যায়, তার নিশ্চিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

আগের কিছু গবেষণায় সহমর্মিতা প্রকাশ, হাসি কিংবা চোখের দিকে তাকানোর মতো অমৌখিক আচরণের কথা বলা হয়েছে। তবে বর্তমান গবেষণায় এসব আচরণ ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ও অবেদনবিদ্যা এবং নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের পরামর্শক আনা সেলগ্রেন ইংস্কভ জানান, পরীক্ষায় নারী ও পুরুষ—উভয় অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রেই নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে একই মাত্রার ব্যথার প্রতিক্রিয়া পেতে বেশি তীব্র উদ্দীপনার প্রয়োজন হয়েছে।

গবেষণাটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ইয়োনাস ওকেসনের মতে, পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের নিয়ে করা গবেষণায় একই ধরনের প্রবণতা পাওয়া গেছে। ব্যথা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে রোগীদের আরও কার্যকর সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ব্যথা একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি। একই ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত দুই ব্যক্তি ভিন্ন মাত্রার ব্যথা অনুভব করতে পারেন। আবার কেউ ব্যথা কতটা অনুভব করছেন, তা কীভাবে প্রকাশ করছেন, সেটিও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয়, ব্যথা মূল্যায়নের সময় রোগীর আশপাশের পরিস্থিতি ও অন্য ব্যক্তির উপস্থিতিও বিবেচনার দাবি রাখে। তবে শুধু রোগীর বলা কথার ওপর নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ব্যথা নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ‘ব্যথার অনুভূতি: ব্যথা সৃষ্টি, মূল্যায়ন ও লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’। গবেষকেরা মনে করছেন, ব্যথা অনুভব ও তা প্রকাশের পেছনে কী কী বিষয় কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত গবেষণা প্রয়োজন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর

উ
প
রে