×
ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

কোন কাগজ ছাড়াই বাপ-দাদার সম্পত্তি খুঁজে বের করবেন যেভাবে

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৯:৫৮:২৩
কোন কাগজ ছাড়াই বাপ-দাদার সম্পত্তি খুঁজে বের করবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজের জমির দলিল, দাগ নম্বর কিংবা খতিয়ান নম্বর খুঁজে পাচ্ছেন না? এ ক্ষেত্রে পূর্বপুরুষের নাম ও জমির অবস্থান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা থাকলে অনলাইনে জমির রেকর্ড খুঁজে দেখার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ভূমি সেবা পোর্টালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার মৌজা নির্বাচন করে মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়।

তবে শুধু নাম দিয়ে অনুসন্ধান করলেই জমির মালিকানা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় না। একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই খতিয়ানে উল্লেখিত মালিকের নাম, পিতার নাম, দাগ নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে যাচাই করা জরুরি।

দলিল বা খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলেও অনুসন্ধান শুরু করতে কয়েকটি তথ্য কাজে আসবে। যেমন—বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা, জমির মৌজা এবং যে পূর্বপুরুষের নামে জমি রেকর্ড হয়েছিল তাঁর নাম ও পিতার নাম।

মৌজার নাম জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হয়। আর জমিটি কোন জরিপের সময় রেকর্ড করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে ধারণা থাকলে সিএস, এসএ, আরএস বা বিআরএস খতিয়ানের মধ্যে উপযুক্ত রেকর্ড নির্বাচন করা সহজ হতে পারে।

অনলাইনে জমির খতিয়ান খুঁজবেন যেভাবে

প্রথম ধাপ: ভূমি সেবা পোর্টালে প্রবেশ

প্রথমে সরকারি ভূমি তথ্য বাতায়ন land.gov.bd-এ প্রবেশ করুন। সেখান থেকে ‘ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ’ সেবা নির্বাচন করুন। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান অনুসন্ধান সেবা চালু হলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে এগিয়ে যান।

দ্বিতীয় ধাপ: জমির অবস্থান নির্বাচন

অনুসন্ধানের জন্য পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা এবং মৌজা নির্বাচন করতে হবে। এরপর জমির এলাকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জরিপের ধরন—যেমন সিএস, এসএ, আরএস বা বিআরএস—নির্বাচন করুন। সব এলাকায় সব ধরনের রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

তৃতীয় ধাপ: পূর্বপুরুষের নাম দিয়ে অনুসন্ধান

খতিয়ান বা দাগ নম্বর জানা না থাকলে অনুসন্ধান পাতায় ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ বা মালিকের নাম দিয়ে খোঁজার সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন। সেখানে পূর্বপুরুষের নাম বাংলায় লিখে অনুসন্ধান করুন। বানানের ভিন্নতা থাকলে সম্ভাব্য বিকল্প বানান দিয়েও চেষ্টা করা যেতে পারে।

অনুসন্ধানের পর একই বা কাছাকাছি নামে একাধিক রেকর্ড দেখা যেতে পারে। তাই শুধু নামের মিলের ভিত্তিতে কোনো খতিয়ানকে নিজের পরিবারের বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

চতুর্থ ধাপ: খতিয়ানের তথ্য মিলিয়ে দেখা

সম্ভাব্য খতিয়ানের মালিকের নাম, পিতার নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং জমির শ্রেণির মতো তথ্য যাচাই করুন। পরিবারের কাছে থাকা পুরোনো দলিল, খাজনার রসিদ বা অন্যান্য জমিসংক্রান্ত কাগজপত্রের সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখুন।

তথ্য মিলে গেলে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানটি আরও যাচাই করার জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। কোনো তথ্যের অমিল থাকলে ভূমি অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া ভালো।

পঞ্চম ধাপ: খতিয়ানের কপি সংগ্রহ

সংশ্লিষ্ট খতিয়ান নিশ্চিত হওয়ার পর পোর্টালে প্রদর্শিত আবেদন ও কপি সংগ্রহের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। সেবা অনুযায়ী আবেদন, ফি প্রদান এবং অনলাইন কপি ডাউনলোডের ব্যবস্থা থাকতে পারে। পেমেন্ট করার আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত ফি ও পদ্ধতি যাচাই করে নিন, কারণ ফি ও সেবার নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।

খতিয়ান জমির রেকর্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও শুধু খতিয়ান দেখেই বর্তমান মালিকানা বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য অংশ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না। জমির দলিল, উত্তরাধিকার, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করে পুরোনো রেকর্ড অনুসন্ধানের বিষয়ে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে