×
ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশি কার্ডের অর্থে ব্যবসায়ীদের নতুন সুবিধা

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৭:৪৬:২৮
বিদেশি কার্ডের অর্থে ব্যবসায়ীদের নতুন সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডসহ অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থায় পণ্য ও সেবা বিক্রির অর্থের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় নিজেদের হিসাবে রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হবে। সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ বৈদেশিক দায় পরিশোধ করতে পারবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-২ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি দর্শনার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড এবং অন্যান্য অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্য ও সেবা কেনাবেচাকে উৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ সরাসরি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে সংরক্ষণ করা যাবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক কার্ড বা অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া মোট বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের হিসাবে রাখতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রতিষ্ঠান ১০০ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করলে সর্বোচ্চ ১৫ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখতে পারবে। বাকি ৮৫ টাকার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হবে।

এই সুবিধার আওতায় রয়েছে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিপণি-বিতান, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিদেশি দর্শনার্থীদের পণ্য ও সেবা সরবরাহকারী বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যে বৈদেশিক মুদ্রা নিজেদের হিসাবে রাখতে পারবে, তা ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংরক্ষিত অর্থ চলতি হিসাবের আওতাভুক্ত বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে করা অনুমোদিত পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া এসব লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যথাযথভাবে কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলেও কর ও অন্যান্য সরকারি পাওনা পরিশোধের নিয়মে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।

নতুন সুবিধা কার্যকর করতে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও লেনদেন যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক কার্ড এবং অন্যান্য অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থা গ্রহণের উপযুক্ত অবকাঠামো ও ব্যবস্থা রেখেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের বিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এ জন্য গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, অর্থের উৎস ও লেনদেনের প্রকৃতি পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দেওয়ার নিয়ম মানতে হবে। কোনো সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। নতুন ব্যবস্থায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ সংরক্ষণ করতে পারায় তাদের বৈধ আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনা সহজ হতে পারে।

বিশেষ করে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় রেখে অনুমোদিত বৈদেশিক দায় মেটাতে পারবে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কিছুটা নমনীয়তা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন বৈধ লেনদেনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় এবার বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে পণ্য ও সেবা বিক্রির অর্থের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় রাখার সুযোগ দেওয়া হলো। একই সঙ্গে নতুন নির্দেশনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জানাতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে