×
ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ঘিরে ছয় প্রশ্নে সৌদিকে চিঠি ঢাকার

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১১:৩৭:০৫
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ঘিরে ছয় প্রশ্নে সৌদিকে চিঠি ঢাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানতে দেশটির সরকারের কাছে ছয়টি প্রশ্ন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তাঁদের বিরুদ্ধে কী অপরাধের অভিযোগ ছিল, বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তাঁরা আইনজীবী পেয়েছিলেন কি না এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছে ঢাকা।

গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠায়। তবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই চিঠির জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে তিনি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন।

গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির আওতায় তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিক কী অপরাধে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, কীভাবে দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং বিচার চলাকালে তাঁরা আইনজীবীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না—এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না।

এ কারণে দুই নাগরিকের বিচার ও দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক পত্রে ছয়টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, দুই বাংলাদেশি কী ধরনের অপরাধ করেছিলেন, ঘটনাগুলো কবে ও কোথায় ঘটেছিল এবং তাঁদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি চেয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয়ত, মৃত্যুদণ্ড কী পদ্ধতিতে কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।

চতুর্থ প্রশ্নে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুই নাগরিকের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পঞ্চমত, তাঁদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে—সে বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

ষষ্ঠত, তদন্ত ও বিচার চলাকালে তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তাঁরা নিজেরা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। এসব তথ্য দ্রুত সরবরাহ করার অনুরোধও জানানো হয়েছে কূটনৈতিক পত্রে।

কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে দেশটিতে আটক ও দণ্ডিত বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা পাঠায়। গত সেপ্টেম্বরের একটি তালিকায় নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। সেখানে একজনের বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচার’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা তালিকায় স্পষ্ট ছিল না।

অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগে দণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া অপরাধের বিবরণের মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ কারণেই বাংলাদেশ অপরাধের প্রকৃতি, আদালতের রায় ও দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে।

১৯ অক্টোবরের বৈঠকে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি কেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আগাম তথ্য পাওয়া গেলে বাংলাদেশ মিশন দুই নাগরিকের পক্ষে আইনি সহায়তার সুযোগ যাচাই, আপিলের সম্ভাবনা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত সপ্তাহে ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ হতাশ। সৌদি আরব থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চলতি মাসে তাঁদের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

তবে আদালতের রায়ের অনুলিপি এবং আইনি প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় আড়াই হাজার বন্দির একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জন বাংলাদেশির দণ্ডিত হওয়ার তথ্য ছিল। তবে তাঁদের সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।

এ কারণে তালিকায় থাকা বাকি ২০ জন বাংলাদেশির শাস্তির ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে