×
ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার, এবার বিপাকে বাবা রুমি

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ২১:২৫:৩৯
চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার, এবার বিপাকে বাবা রুমি

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছরের এক শিশুশিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসার এক শিক্ষক গ্রেপ্তারের পর এবার শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে বিষয়টি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ছয় বছরের এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় শিশুটির অভিভাবকের করা মামলায় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার মোসলেম আহমদের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কর্তিবাড়ী মাস্টারপাড়া এলাকায়। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী অভিযোগ করেছেন, একদল লোক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

ফলে শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলার পাশাপাশি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলাও তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে উদ্দেশ করে ধর্মীয় বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরিফের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই বক্তব্যে রুমিকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ঘটনায় একদিকে শিশুটির প্রতি আচরণের অভিযোগের বিচার, অন্যদিকে মাদ্রাসায় হামলা ও মারধরের অভিযোগের তদন্ত—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে