×
ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সংবিধান সংস্কার নিয়ে যা বললেন আসিফ নজরুল

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৫:৪৬:২৬
সংবিধান সংস্কার নিয়ে যা বললেন আসিফ নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সংবিধানের চেয়ে আরও আধুনিক, উন্নত ও কার্যকর সংবিধান প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ড. আসিফ নজরুল। সংবিধান সংস্কার নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং সংসদীয় সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

আলোচনায় সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে গুণগত পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নাকি ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’—এ ধরনের নামকরণ ও প্রক্রিয়াগত বিতর্কে আটকে না থেকে একটি উন্নত, আধুনিক ও কার্যকর সংবিধান প্রণয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবিধান সংস্কারের আলোচনায় নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব পায়। ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্যের বিবরণে বলা হয়, জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে উল্লেখিত নয়টি পদ্ধতির মধ্যে আটটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য রয়েছে। বাকি বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের পদ্ধতি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় করতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় জানানো হয়, সাবেকআইন উপদেষ্টা এসব আইন পরবর্তী সময়ে প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। বিচারক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বাধীনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সংসদ সদস্যদের ভূমিকা এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ অনুচ্ছেদ নিয়ে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

পাশাপাশি সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে।

আলোচকদের মতে, সংসদীয় কমিটিগুলো কার্যকরভাবে কাজ করলে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়বে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকলে সংসদে কার্যকর আলোচনা ও তদারকির পরিসরও বাড়তে পারে।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিষয়টিও আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। সে সময় মানুষের প্রত্যাশা থাকলেও তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি বলে বক্তব্যে দাবি করা হয়।

এবার সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। সংবিধানে এমন পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়, যা বাস্তবসম্মত, কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

সামগ্রিকভাবে আলোচনায় সংবিধানকে আরও আধুনিক করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা এবং সংসদীয় জবাবদিহি বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে