×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

গাড়ির নাম্বার প্লেটে ক, খ, গ, ঘ কেন লেখা থাকে? জানলে অবাক হবেন

২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৭:২৮:৩৫
গাড়ির নাম্বার প্লেটে ক, খ, গ, ঘ কেন লেখা থাকে? জানলে অবাক হবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সড়কে প্রতিদিন চলাচল করা লাখ লাখ গাড়ির নম্বর প্লেটের দিকে তাকালে দেখা যায় নম্বরের আগে বাংলা বর্ণমালার বিভিন্ন অক্ষর—যেমন ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’, ‘ঘ’, ‘চ’, ‘জ’ ইত্যাদি লেখা থাকে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, একই শহরের গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও এই বর্ণগুলো কেন আলাদা হয়? কেউ কেউ ভাবেন, এটি হয়তো গাড়ির মালিকের নামের আদ্যক্ষর, গাড়ির দামের সংকেত কিংবা মালিকের সামাজিক মর্যাদার কোনো বিশেষ চিহ্ন।

তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর নিয়ম অনুযায়ী, গাড়ির নম্বর প্লেটে থাকা এই বর্ণগুলো মূলত গাড়ির ধরণ, ব্যবহার এবং ইঞ্জিনের সিসি (ক্ষমতা) নির্দেশ করে।

কীভাবে নির্ধারিত হয় নম্বর প্লেটের বর্ণ?

বিআরটিএর যানবাহন নিবন্ধন শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, প্রতিটি যানবাহনকে তার আকার, আসন সংখ্যা এবং ইঞ্জিন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। নম্বর প্লেট দেখে সহজেই চিনে নেওয়া যায় গাড়িটি কোন শ্রেণীর:

১. ‘ক’ বর্ণ (৮০০ থেকে ১০০০ সিসি):সাধারণত ১০০০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন ছোট প্রাইভেটকারের জন্য নম্বর প্লেটে ‘ক’ বর্ণটি বরাদ্দ থাকে।

২. ‘খ’ বর্ণ (১০০১ থেকে ১৩০০ সিসি):যেসব প্রাইভেটকারের ইঞ্জিন ক্ষমতা ১০০১ সিসি থেকে ১৩০০ সিসির মধ্যে, সেগুলোর নম্বর প্লেটে ‘খ’ অক্ষর ব্যবহৃত হয়।

৩. ‘গ’ বর্ণ (১৩০১ থেকে ২০০০ সিসি):১৩০১ সিসি থেকে শুরু করে ২০০০ সিসি পর্যন্ত মাঝারি ও প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রে ‘গ’ বর্ণ নির্ধারণ করা হয় (যেমন—টয়োটা এক্স করোলা, প্রিমিও, অ্যালিয়ন ইত্যাদি)।

৪. ‘ঘ’ বর্ণ (জিপ ও এসইউভি):উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জিপ, এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল) এবং বিলাসবহুল ফোর-হুইল ড্রাইভ গাড়ির নম্বর প্লেটে সাধারণত ‘ঘ’ বর্ণটি দেখা যায়।

৫. ‘চ’ বর্ণ (মাইক্রোবাস):পারিবারিক বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত যেকোনো ধরনের মাইক্রোবাসের নম্বর প্লেটে থাকে ‘চ’ বর্ণ।

৬. ‘জ’ বর্ণ (মিনিবাস):শহর বা দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী ছোট আকারের বাস বা মিনিবাসের ক্ষেত্রে ‘জ’ অক্ষর ব্যবহার করা হয়।

৭. ‘ঝ’ বর্ণ (বড় যাত্রীবাহী বাস):বড় আকারের যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসগুলোর নম্বর প্লেটে ‘ঝ’ বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।

৮. ‘ল’ বর্ণ ও অন্যান্য (মোটরসাইকেল):শুধু চার চাকার গাড়িই নয়, দুই চাকার মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও ইঞ্জিন ক্ষমতা ও মডেলের ওপর ভিত্তি করে ‘ল’ বা অন্য নির্দিষ্ট বর্ণ যুক্ত করা হয়।

একটি সাধারণ নম্বর প্লেটের তিনটি মূল অংশ থাকে:

প্রথম অংশ (এলাকা): যেমন ‘ঢাকা মেট্রো’, ‘চট্টগ্রাম মেট্রো’ বা জেলার নাম—যা বোঝায় গাড়িটি কোথা থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অংশ (শ্রেণি ও সিরিয়াল): যেমন ‘গ-১২’—যেখানে ‘গ’ গাড়ির শ্রেণি ও সিসি নির্দেশ করে এবং পাশের সংখ্যাটি সেই শ্রেণির সিরিয়াল নির্দেশ করে।

তৃতীয় অংশ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর): শেষের চার বা ছয় অঙ্কের নির্দিষ্ট নম্বরটি প্রতিটি গাড়ির স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর।

গাড়ির নম্বর প্লেটের এই বাংলা বর্ণগুলো কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক অক্ষর নয়, বরং এটি যানবাহনের শ্রেণিবিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের এক সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক কোড। নম্বর প্লেটের একটি ছোট্ট বাংলা বর্ণ দেখেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সাধারণ মানুষ খুব সহজেই গাড়ির প্রকৃত ধরণ ও ইঞ্জিন ক্ষমতা শনাক্ত করতে পারেন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর

উ
প
রে