×
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্টের খাবারের পছন্দ জানলে অবাক হতে পারেন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১২:০৪:২২
চীনের প্রেসিডেন্টের খাবারের পছন্দ জানলে অবাক হতে পারেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফর মানেই কঠোর নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ও নানা আয়োজন। তবে এসব আনুষ্ঠানিকতার বাইরে তার ব্যক্তিগত খাবারের পছন্দও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। নথিভুক্ত কয়েকটি ঘটনা থেকে দেখা যায়, দামি বা জাঁকজমকপূর্ণ খাবারের চেয়ে সাধারণ ঘরোয়া খাবারের প্রতিই তার আগ্রহের বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে।

সম্প্রতি ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করেন শি জিনপিং। রাষ্ট্রীয় সফরে তার খাবারের বিষয়টি সাধারণত খুব বেশি আলোচনায় না এলেও বিভিন্ন সময়ের মধ্যাহ্ন ও নৈশভোজের তথ্য থেকে তার খাবারের পছন্দ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।

শি জিনপিংয়ের খাবার নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। সেসময় তিনি বেইজিংয়ের কিংফেং স্টিমড বান রেস্তোরাঁয় গিয়ে ছয়টি শূকরের মাংস ও পেঁয়াজপাতা দেওয়া বান, এক বাটি রান্না করা কলিজা এবং এক প্লেট সরিষা শাকের তরকারি অর্ডার করেন। পুরো খাবারের দাম হয়েছিল ২১ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ টাকার সমান।

পিপলস ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, শি জিনপিং সেখানে সাধারণ গ্রাহকদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেই খাবারের মূল্য পরিশোধ করেন। এরপর অন্যদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খান। চীনের প্রেসিডেন্টকে সাধারণ একটি রেস্তোরাঁয় এভাবে খাবার খেতে দেখে ঘটনাটি সে সময় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

ওই খাবারের তালিকায় থাকা স্টিমড বানও ছিল সাধারণ মানুষের পরিচিত একটি খাবার। ফলে ঘটনাটি শি জিনপিংয়ের সাধারণ খাবারের প্রতি আগ্রহের উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।

২০১২ সালে হেবেই প্রদেশের ফুপিং কাউন্টি সফরের সময়ও শি জিনপিংয়ের জন্য সাধারণ ধরনের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। পিপলস ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, তার খাবারের তালিকায় ছিল বাদামি সসে রান্না করা মুরগির মাংস, শূকরের পেটের মাংস দিয়ে রসুনের কুঁড়ি ভাজি এবং রসুন দিয়ে রান্না করা গারল্যান্ড ক্রিস্যান্থেমাম শাক।

ওই নৈশভোজে একটি বিষয়ও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। শি জিনপিং কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন তার খাবারের সঙ্গে মদ পরিবেশন করা না হয়।

সেই সফরে তার থাকার ব্যবস্থাও ছিল বেশ সাধারণ। তিনি মাত্র ১৬ বর্গমিটারের একটি ছোট হোটেল কক্ষে অবস্থান করেন। কক্ষটির বাথরুমের কিছু টাইলস ভাঙা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও শি কক্ষটিকে পরিষ্কার ও ভালো বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি চলে যাওয়ার আগেই হোটেলের বিল পরিশোধের নির্দেশ দেন।

শি জিনপিংয়ের খাবারের পছন্দের সঙ্গে তার জীবনের শুরুর দিকের সময়েরও যোগ রয়েছে। তরুণ বয়সে তিনি শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে বসবাস ও কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে সেই গ্রামে ফিরে গিয়ে তিনি ঘরোয়া খাবার খান। সিনহুয়ার প্রতিবেদনে ওই খাবারের তালিকায় আচার, ভাজা কেক, মুরগির মাংস, খাসির মাংস ও কুমড়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

শানসি অঞ্চলের খাবার তার রাজনৈতিক অতিথিদের সঙ্গে আয়োজিত ভোজেও দেখা গেছে। ২০১৪ সালে বেইজিংয়ে তৎকালীন কুওমিনতাং চেয়ারম্যান লিয়েন চ্যানের সঙ্গে বৈঠকের সময় আয়োজিত খাবারে ছিল খাসির মাংসের পাই, খাসির মাংসের স্যুপ ও নুডলস। এ তথ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে উঠে আসে।

একইভাবে ২০১৪ সালে চীনা নববর্ষের আগে ইনার মঙ্গোলিয়ায় সেনাসদস্যদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সময়ও শি জিনপিংয়ের খাবারের তালিকায় ছিল সাধারণ একটি পদ—টমেটো দিয়ে ভাজা ডিম।

শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত খাবার এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ভোজ সাধারণত কূটনৈতিক আয়োজনের অংশ। সেখানে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ খাবার ও নানা ধরনের উপকরণ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশটির খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়।

অন্যদিকে, বিভিন্ন সময়ে নথিভুক্ত শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত খাবারের তালিকায় স্টিমড বান, নুডলস, শাকসবজি, মুরগি ও খাসির মাংসের মতো সাধারণ খাবার উঠে এসেছে। বিশেষ করে শানসি অঞ্চলের ঘরোয়া রান্নার সঙ্গে তার পুরোনো স্মৃতির সম্পর্কও এসব খাবারের পছন্দে প্রতিফলিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চীনের প্রেসিডেন্টের খাবারের যেসব ঘটনা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে, তার অনেকটাই জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজকে ঘিরে নয়; বরং সাধারণ মানুষের পরিচিত খাবার ও তার জীবনের পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত খাবারকে ঘিরে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে