×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ছোট দেশ’ ধারণা বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশ, চীনকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৭:৪৫:৩২
‘ছোট দেশ’ ধারণা বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশ, চীনকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগর ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থান এবং বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ দেশটিকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বাংলাদেশকে বিশ্ব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইট স্পট’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত সহযোগিতা বিশেষ করে রেল ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। দ্রুতগতির রেল যোগাযোগসহ আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাতায়াতের সময় কমতে পারে। এর ফলে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি আসার পাশাপাশি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে ।

এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নকে শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হিসেবে দেখা হয়নি; বরং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও ভোক্তা বাজারের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ তৈরি হলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সরবরাহ চেইন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে ।

চীনের বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহের পেছনে শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। গভীর সমুদ্রবন্দর, সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি ব্যবহার করে চীন তার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে চীনের জন্য মালাক্কা প্রণালীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমানোর বিষয়টিও এই আগ্রহের একটি কারণ ।

বাংলাদেশের জন্যও এ ধরনের সহযোগিতা অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভিডিওটিতে চীন-বাংলাদেশের এই সম্পর্ককে ‘উইন-উইন’ বা উভয়পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি সমীকরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একদিকে বাংলাদেশ উন্নত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধা পেতে পারে, অন্যদিকে চীন পেতে পারে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও উন্নয়ননীতিতে নিজস্ব স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো পরাশক্তির চাপ, ভয় বা ‘ঋণের ফাঁদ’ নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্যের পরিবর্তে দেশের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ অবকাঠামোগত সহযোগিতা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, ঋণের শর্ত, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে দর-কষাকষি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানো গেলে দেশটি আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠার সুযোগ পেতে পারে। চীনের সঙ্গে অবকাঠামোগত সহযোগিতা সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বিনিয়োগের শর্ত, পরিবেশগত বিষয় এবং বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে