×
ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাংক-বীমা-সিমেন্টের শেয়ারে সুখবর, সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারের চিত্র

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১০:৩২:০১
ব্যাংক-বীমা-সিমেন্টের শেয়ারে সুখবর, সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারের চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচক ছিল ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহে ডিএসইর অন্যান্য প্রধান সূচকেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচক ছিল ২ হাজার ৯৫ পয়েন্ট। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএসও ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৭ পয়েন্টে উঠেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ১০৫ পয়েন্ট।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের প্রথম দিকে জ্বালানি সংকট, কোম্পানিগুলোর আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে বাজারে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। শিল্প উৎপাদন ও করপোরেট মুনাফায় গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকায় ওই সময়ে বিক্রয়চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে সপ্তাহের পরবর্তী সময়ে বিক্রয়চাপ কমে আসায় বাজারে সূচক আবার বাড়তে শুরু করে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৭টির দর বেড়েছে, ২১৩টির দর কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া ২৫টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি। সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও লাফার্জহোলসিমের শেয়ার।

খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল বস্ত্র খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। ব্যাংক খাতের অংশ ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ, যা নিয়ে খাতটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতের অংশ ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অংশ ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

রিটার্নের হিসাবে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিমেন্ট খাতে। এ খাতে রিটার্ন ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপর সাধারণ বীমা খাতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্যাংক খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। কাগজ খাতেও ০ দশমিক ৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।

অন্যদিকে কয়েকটি খাতে নেতিবাচক রিটার্নও দেখা গেছে। জীবন বীমা খাতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া বিবিধ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ, সিরামিক খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ভ্রমণ খাতে ০ দশমিক ৭ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন হয়েছে।

তবে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ছিল বিপরীত চিত্র। গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৭৩৬ পয়েন্টে নেমেছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচক ছিল ১৪ হাজার ৮৬৭ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকও সপ্তাহের ব্যবধানে ০ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ৯ হাজার ২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯ হাজার ৭৩ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে প্রায় ৯৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচ্য সময়ে লেনদেন হওয়া ৩০২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০১টির দর বেড়েছে, ১৭৬টির দর কমেছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

সামগ্রিকভাবে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে সূচকের সামান্য উত্থান হলেও বাজারে এখনো বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং খাতভেদে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক, সাধারণ বীমা ও সিমেন্ট খাতে ইতিবাচক রিটার্ন এলেও বেশ কিছু খাতে দর কমেছে। ফলে বাজারের পরবর্তী গতিপথে কোম্পানির আয়, জ্বালানি পরিস্থিতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে