×
ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে যা বললেন ফজলুর রহমান

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১০:২০:৪৫
জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে যা বললেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং জিন্নাহর পরিবারের পূর্বপরিচয় ছিল হিন্দু।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে ফজলুর রহমান বলেন, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গুজরাটের একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে জিন্নাহর জন্ম এবং তার বাবা মাছ বিক্রি করতেন। তিনি আরও দাবি করেন, মাছ বিক্রেতাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো এবং জিন্নাহর বাবার প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’।

ফজলুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে হিন্দু ঐতিহ্যেরও সম্পর্ক ছিল। তবে ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জাকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জীবনীমূলক সূত্রে তাকে তুলা, পশম, শস্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

জিন্নাহর পরিবারের ধর্মীয় শিকড় নিয়েও ঐতিহাসিক আলোচনায় বলা হয়, পরিবারটি গুজরাটের খোজা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই সম্প্রদায়ের একটি অংশ ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু ধর্মীয় পটভূমি থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তবে জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জাকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং সন্তানদের কোরআন শিক্ষা দেওয়ার কথাও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ফজলুর রহমান জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জিন্নাহ প্রথম দিকে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় জিন্নাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফজলুর রহমান আরও বলেন, ১৯২৯ সালে জিন্নাহর ঘোষিত ১৪ দফায় মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক দাবি উঠে আসে। এসব দাবির মাধ্যমে তৎকালীন ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি আরও গুরুত্ব পায়।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি নেতাদের ভূমিকার প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাঙালিরাও অংশ নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নীতির সঙ্গে অসন্তোষ তৈরি হলে বাঙালিরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। উদ্বোধক ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে এবং রবীন্দ্র সৃজন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদাসহ অন্যরা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে